তিস্তা সেচ প্রকল্প
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:৩৮ পিএম
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:৪২ পিএম
২০২১ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দে ‘তিস্তা সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকার পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পটি পাস হয়।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গত বছরের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চলতি বছেরের এসে দেখা গেল অর্ধেকেও বেশি কাজা বাকি। গত ৩ বছরে শেষ হয়েছে মাত্র ৪২ শতাংশ!
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির শতভাগ সমাপ্ত হলে তিস্তা সেচ কমান্ড এলাকায় প্রতি বছর অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন। প্রকল্পের খাল ডিমলার তিস্তা ব্যারাজ থেকে শুরু করে নীলফামারী সদরসহ ৫ উপজেলায় বিস্তৃত, রংপুরের বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, তারাগঞ্জ এবং দিনাজপুরের খানসামা ও চিরিরবন্দর মিলিয়ে মোট দৈর্ঘ্য ৭৬৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে সেচ পাইপ বসানো হবে ৭২ কিলোমিটার, পুরো অংশের পাড় শক্তিশালীকরণ করা, বাইপাস সেচখাল নির্মাণ হবে ৭ দশমিক ১৩ কিলোমিটার। পাড় রক্ষায় কংক্রিটের ব্লক বসানো হবে ১০ দশমিক শূন্য ৮ কিলোমিটার। তা ছাড়াও নির্মাণ করা হবে ২৭টি কালভার্ট, ২৭০ হেক্টর জমিতে জলাধার পুনঃখনন, ৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার নালা পুনঃখনন, ৫২ কিলোমিটার পরিদর্শন রাস্তা মেরামতসহ ২০টি রেগুলেটর নির্মাণ ও ৮৭ হাজারের বেশি গাছ রোপণ করা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, ইতোমধ্যে ভারত ফারাক্কাসহ অভিন্ন প্রায় ৫৪টি নদীতে বাঁধ নির্মাণ ও খাল খনন করেছে। ফলে বাংলাদেশের বিশাল এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। গত প্রায় দুই যুগে তিস্তায় সেচের লক্ষ্যমাত্রা কোনোভাবেই পূরণ হয়নি। সেচখাল সম্প্রসারণের নামে বরাদ্দকৃত রাষ্ট্রের এই বিপুল অর্থ নষ্ট হচ্ছে কি না, এটা ভাববার বিষয়।
পাউবো রংপুরের প্রধান প্রকৌশলী মাহবুব রহমান জানান, প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দের ঘাটতিতে কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকল্পের ব্যয় আর না বাড়িয়ে এই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।