বাগেরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২১:২৫ পিএম
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:১৫ পিএম
গরুশূন্য গোয়ালের দিকে তাকিয়ে আছেন শিল্পি রানী শিউলি। প্রবা ফটো
বাগেরহাট সদর উপজেলায় এক কৃষকের গোয়াল থেকে ৯টি গরু চুরি হয়েছে। আয়ের একমাত্র উৎস্য হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে জেলার সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের মালোপাড়া এলাকায় এ চুরির ঘটনা ঘটে।
গরুগুলোকে পিকআপে করে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। যেকোনো মূল্যে চোর শনাক্ত করে গরু উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ বলছে, খবর শুনে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, তদন্ত চলছে।
চুরি হওয়া ৯টি গরুর মধ্যে ৫টি গাভী, ১টি বড় ষাঁড় ও ৩টি বাচ্চা রয়েছে। তার দাবি- গরুগুলোর বাজার মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা। দুধ বিক্রির টাকায় কৃষক শিবু পদের চার সদস্যের সংসার চলত। স্বামী-স্ত্রী দুইজনে গরুগুলোর পরিচর্যা করতেন।
শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, গরু থাকার গোয়াল আছে, খাবারের জায়গা আছে। শুধু গোয়ালে গরুগুলো নাই। মাটিতে বসে গরুশূন্য গোয়ালের দিকে তাকিয়ে আছেন দুই সন্তানের জননী শিল্পি রানী শিউলী। পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস চুরি হওয়ায় নির্বাক হয়ে পড়েছেন তিনি। আর স্বামী শিবু পদ শিউলী গরুর সন্ধানে সকাল থেকে ছুটছেন বিভিন্ন হাট-বাজারে। প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনেরা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন শিল্পিকে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শিবুর বোন কাকলী মন্ডল বলেন, ‘আমার একটামাত্র ভাই। সে তেমন কোনো কাজ করতে পারে না। গরুগুলো দেশী জাতের হলেও ভালই দুধ দিত। এ দুধ বিক্রির টাকায় ওর সংসার চলত। এখন তো না খেয়ে মরতে হবে তাদের। পুলিশ-প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি- যতদ্রুত সম্ভব গরুগুলো উদ্ধার করে দিক।’
শিবুর প্রতিবেশী শেখ আব্দুল আলী বলেন, প্রায়ই গরু চুরির খবর পাই বিভিন্ন এলাকায়। আমাদের এলাকায় দীর্ঘদিন এসব ছিল না। রাতে শিবুর গোয়াল খালি করে ৯টি গরু নিয়ে গেল। কাল যে অন্য কারও তা নেবে না, তার কোন নিশ্চয়তা নেই। আমরা চাই চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
শিবুর স্ত্রী শিল্পি রানী শিউলী বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছি আমরা। রাত ৩টার দিকে একবার উঠেছি, তখনও বাইরে আলো জ্বলছিল। পরে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঘুম থেকে উঠে চেষ্টা করেও দরজা খুলতে পারছিলাম না। পরে স্বামীকে বললে সে পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে দেখে আমাদের ঘরের সামনের দরজা দুটি দড়ি দিয়ে বাঁধা রয়েছে। বাইরে বিদ্যুতের লাইটটিতে লুঙ্গি পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে আলো দূরে না যেতে পারে। গোয়ালে গিয়ে দেখিয়ে কোনো গরু নাই। মশারিটি বিভিন্ন স্থান থেকে কাটা। তখন আমার স্বামী কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে তিনি গরু খোঁজার জন্য বিভিন্ন হাট বাজারে ঘোরাঘুরি করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে আমাদের সংসার। এখন কীভাবে সংসার চলবে জানি না। গরুগুলোকে উদ্ধার করা গেলে খুবই ভাল হত।’
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শিবু পদের কাছে মুঠোফোন না থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বেশকিছু আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই ও চুরির কাজে ব্যবহৃত পরিবহন শনাক্তের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল আরিফ। তিনি বলেন, ‘পুলিশ তদন্ত শুরু করছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই-বাছাইসহ বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে কাজ করা হচ্ছে। আশা করি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার সম্ভব হবে।’