রমজানের বাজার
সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৯:২২ এএম
ফাইল ফটো
রমজান মাসে দেশের বাজারে বেশি চাহিদা থাকে ছোলার। ছয় মাস ধরে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পর রমজানের আগে কমতে শুরু করেছে রোজার অন্যতম এ পণ্যেটির দাম। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে পর্যাপ্ত আমদানি বাড়ায় ছোলার দাম নিম্নমুখী হয়েছে।
দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ছোলার দাম কেজিপ্রতি কমেছে ৭-৮ টাকা। সর্বশেষ জানুয়ারিতে চাহিদার সমপরিমাণ ছোলা আমদানি হওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। সর্বশেষ আমদানি ছাড়াও পূর্বের মজুদ ছোলার কারণে দাম আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে বর্তমানে ছোলার বুকিংদর টনপ্রতি ৬২০ থেকে ৬৪০ ডলার। এই দর ৮৫০ থেকে ৯০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। ছোলা ও ডালজাতীয় পণ্য আমদানিতে শুল্ক না থাকার কারণে দেশে পণ্যটির দাম আরও কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দাম বাড়তি থাকায় বাজার স্থিতিশীল হতে সময় লাগছে। আমদানি হলেও এখনও পাইকারি বাজারগুলোতে সরবরাহ না বাড়ায় দাম কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নামতে পারছে না। আমদানিকৃত ছোলার সরবরাহ বাড়লে কেজিপ্রতি আরও ১২-১৪ টাকা পর্যন্ত কমার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ট্রেডিং ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে খাতুনগঞ্জের ডাল ও মসলাপণ্য ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেকান্দর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এখনও ছোলার দাম সহনীয় পর্যায়ে আসেনি। গত রমজানের পর দেশে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলে। একপর্যায়ে পাইকারি দাম কেজিতে ১২৫ টাকায় গিয়ে ঠেকে। বর্তমানে দাম কমতে কমতে সর্বনিম্ন ৮৪-৮৬ টাকায় নেমেছে। আর কিছু ছোলা ৮৮-৯০ টাকাও বিক্রি হচ্ছে।
পর্যাপ্ত আমদানি হওয়ায় আসন্ন রমজানে পণ্যটির দাম বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলেও জানান এই ব্যবসায়ী।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের তথ্যানুযায়ী আগে দেশে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মিয়ানমার, তাঞ্জানিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হতো ছোলা। তবে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া থেকে বেশি আমদানি হচ্ছে। মিয়ানমারের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশটি থেকে আমদানি সীমিত হয়ে গেছে। এবার রমজানের আগে মিয়ানমার থেকে ছোলা আমদানির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে ভারত থেকে তাঞ্জানিয়ায় উৎপাদিত ছোলা বাংলাদেশে লেনদেন হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি হওয়া ছোলা কেজিপ্রতি সর্বনিম্ন ৯১ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও ভারত থেকে আসা ছোলা লেনদেন হচ্ছে ৮৪-৮৬ টাকা দরে। দেশে চাহিদা অনুপাতে পর্যাপ্ত আমদানি হওয়ায় পণ্যটির দাম আরও কমবে বলে জানিয়েছেন ডালজাতীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
কাস্টমসের তথ্যমতে, জানুয়ারি মাসে দেশে ছোলা আমদানি হয়েছে ৯৩ হাজার টনের কিছু বেশি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও প্রায় ১৫ হাজার টন ছোলা আমদানি হয়েছিল। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বিক্ষিপ্তভাবে ছোলা আমদানি হওয়ায় রমজানের মোট চাহিদার উদ্বৃত্ত দেশে প্রবেশ করেছে। দেশে আগের মজুদসহ সাম্প্রতিক আমদানি মিলিয়ে রমজানে প্রায় এক লাখ টনের ছোলার সরবরাহ থাকায় ঘাটতির সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলোর তদারকির পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার প্রয়োজনে মজুদপ্রবণতা রোধ করা গেছে। ফলে আসন্ন রমজানে ছোলার দাম আরও কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি জানুয়ারিতে আমদানি হয়েছে ৬২ হাজার টন মসুর ও ১ লাখ ৮ হাজার টন মটর (অ্যাংকর) ডাল। ছোলার তুলনায় দাম কম হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে রমজান মাসে বিকল্প হিসেবে অ্যাংকর ডালের ব্যবহার হয়ে থাকে।
এ প্রসঙ্গে খাতুনগঞ্জের মেসার্স হক ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী আজিজুল হক বলেন, রোজায় যে পরিমাণ ছোলার প্রয়োজন তা দেশের বাজারে আছে। আগে বিশ্ববাজারে ছোলার বুকিংদর বেশি থাকায় দামও ছিল বেশি। এখন বৈশ্বিক দাম অনেক কমে গেলেও আমদানিকারকরা কমাতে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছে। রোজার আগে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো গেলে দাম আরও কমবে। তাই প্রশাসনের নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারের তথ্যানুযায়ী, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের ডালজাতীয় পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ২-৫ টাকা কমে লেনদেন হচ্ছে। এর মধ্যে মোটা জাতের মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯২-৯৫ টাকায়, চিকন (ভারতীয়) ১২২-১২৪, দেশীয় চিকন জাতের ১২৮-১৩০ টাকা। অপরদিকে অ্যাংকর বিক্রি হয়েছে ৫২ থেকে ৫৪ টাকায়। খেসারি ১০৫-১০৭ টাকা, মুগডাল (ভারতীয়) ১০৬-১০৭, মুগডাল দেশীয় ১৫০ এবং ভারত ব্যতীত অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি হওয়া চিকন জাতের মুগডাল ১৬০ টাকা কেজিদরে লেনদেন হয়েছে।