সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২১:৫৫ পিএম
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু জাফর চৌধুরী বলেছেন, গত ১৭ বছর শেখ হাসিনার সরকারের দোসর বিনা ভোটের সংসদ সদস্য ফজলে করিমের অনুগত বাহিনীর হাতে রাউজান জিম্মি ছিল।
ভোটবিহীন সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিমের প্রত্যক্ষ নির্দেশে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী হামলা ও মামলায় জর্জরিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেছিল। শতাধিক নেতাকর্মী হত্যা ও গুমের শিকার হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে রাউজান উপজেলা বিএনপি ও পৌরসভা বিএনপির ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের এসব বলেন আবু জাফর চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ২৩ ফেব্রুয়ারি সংবাদপত্রের মাধ্যমে রাউজান উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ উল্লেখ করে দুই সদস্য বিশিষ্ট দুটি পকেট কমিটি ঘোষণা করেছেন। যার প্রতিবাদে রাউজানের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও হামলা-মামলার শিকার নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ওই কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়কের নিজস্ব লোকজনকে কমিটিতে স্থান দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ওই কমিটি রহস্যজনক কারণে বাতিল করা হয়নি।
মূলত রাউজানে কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এই পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারিরা। সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত রাউজান পৌরসভা বিএনপির কমিটিকে উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকারের ‘পকেট’কমিটি আখ্যা দিয়েছেন। এর আগে, গত ১ ফেব্রুয়ারি রাউজানের নানা অভিযোগ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারীরা। এতে রাউজানের একটি পক্ষ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে পুরনো কায়দায় এলাকার বাড়ি ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন।
রাউজান পৌরসভা বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আবু জাফর চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, উত্তর জেলা যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক জানে আলমকে প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজি ও চাঁদাবাজির অপরাধে র্যাব ও যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের ঘটনা সবার জানা। যাকে সঙ্গে নিয়ে উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক (গোলাম আকবর খোন্দকার) বারংবার রাউজান সফর করেছেন এবং পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেছেন। রাউজান থানা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রবাসী ইয়াছিনের জন্য সাংবাদিক সম্মেলনে মায়াকান্না পরিবেশন তাদের আওয়ামী প্রীতি ও পূর্ণবাসনের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। রাউজানের প্রতিটি ইটভাটা আগে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি ছিল। বর্তমানে ইট ভাটার মালিকরা তাদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা করে যাচ্ছেন, এখানে কারা চাঁদাবাজি করছে তা সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানাচ্ছি।এতে রাউজান উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হুদা চেয়ারম্যান, ফিরোজ আহমদ, পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মঞ্জুরুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্টের পর থেকে খুন, অপহরণ, মারামারি, গোলাগুলিসহ নানা অহিংস কর্মকাণ্ড চলছে চট্টগ্রামের রাউজানে। এসময়েই অন্তত অর্ধশত হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। মামলা হয়েছে ৩২টি। এমনকি গত ২৪ জানুয়ারি রাউজানের নোয়াপাড়ার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম গেল ২৪ জানুয়ারি জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। চাহিদামতো চাঁদা না দেওয়ায় ১২ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে মেরে ফেলে। এর কিছুদিন আগে কদলপুরে গুলি করা হয় আনোয়ার হোসেন বাচলুকে। মাথা ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। নোয়াপাড়ায় সংঘর্ষের আরেক ঘটনায় পায়ে গুলি করা হয় মোহাম্মদ সুজনকে।