× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ৯ নেতাসহ সবাই খালাস, ঈশ্বরদীতে বাঁধভাঙা উল্লাস

প্রবা ও ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:৪৫ পিএম

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:৫০ পিএম

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ৯ নেতাসহ সবাই খালাস, ঈশ্বরদীতে বাঁধভাঙা উল্লাস

তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ঈশ্বরদী বিএনপির ৯ নেতাসহ সবাইকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব-উল ইসলাম ও বিচারপতি হামিদুর রহমানের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। প্রায় ৩০ বছর আগে পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে শেখ হাসিনার ট্রেন লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগে এ মামলা হয়েছিল। এতে ২০১৯ সালে বিচারিক আদালত ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ১৩ জনকে ১০ বছর মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।

বুধবার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ে হাইকোর্ট বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সব আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হলো। আমরা চাই না, তারা আর এক সেকেন্ডও কারাগারে থাকুক। এখনই সবাইকে মুক্তির নির্দেশ প্রদান করছি। আদালতে আসামিদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম মুকুল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মজিবুর রহমান। ভাষার মাসের সম্মানে আদালত বাংলা ভাষায় এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব-উল ইসলাম রায়ের মূল অংশ পাঠ করেন। গত ৩০ জানুয়ারি এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গতকাল পাবনা বিএনপির শত শত নেতাকর্মী এনেক্স কোর্ট বিল্ডিংয়ের সামনে অবস্থান নেন। রায় শোনার পর তারা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে সভা করার কথা থাকলেও ঈশ্বরদী বিএনপির নেতা জাকারিয়া পিন্টুসহ তার নেতৃত্বে মামলার অন্য আসামিরা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঈশ্বরদী স্টেশন এলাকায় ট্রেনে গুলি ও বোমাবর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী জিআরপি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ওই দিনই একটি মামলা করেন। ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল ৫২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় সিআইডি। তাদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেলে তাদের চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ৩ জুলাই জাকারিয়া পিন্টুসহ ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। সেই সঙ্গে ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়। দণ্ডিতরা সবাই ঈশ্বরদী বিএনপির নেতাকর্মী। পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি খালাস চেয়ে আপিল করেন আসামিরা।


ঈশ্বরদীতে উল্লাস, মিষ্টি বিতরণ

রায় ঘোষণার পর ঈশ্বরদী শহরসহ ইউনিয়ন ইউনিয়নে ঢাকঢোল ও ব্যান্ড-পার্টি নিয়ে রঙ ছিটিয়ে নেচে-গেয়ে আনন্দ মিছিল ও বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। সাধারণ মানুষের মাঝে তারা মিষ্টি বিতরণও করেন। 

দুপুর ১টা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা পৌর শহরের রেলগেট চত্বরে সমবেত হতে থাকেন। সেখানে ঢাকঢোল বাজিয়ে ও রঙ ছিটিয়ে তারা উল্লাস প্রকাশ করেন। আনন্দ মিছিলটি শহরের রেলগেট থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাজারে প্রধান ফটকের সামনে সড়কে পথসভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। 

অন্যদিকে রায় ঘোষণার পর মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করে বিএনপির আরেক অংশের নেতাকর্মীরা। এটি শহরের আলহাজ্ব মোড় থেকে শহর প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে খালাস পাওয়া পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন জুয়েল বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিক এ মামলায় সহযোগিতা ও সুদৃষ্টি দিয়েছেন বলেই মিথ্যা মামলা থেকে সবাই খালাস পেয়েছেন।’ 

বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এসএম ফজলুর রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনার মিথ্যা ও বানোয়াট একটি মামলায় সাড়ে ৫ বছর বিএনপির ৪৭ নেতাকর্মী কারাগারে ছিলেন। ট্রেনের কথিত হামলার মামলায় একজন মানুষও আহত হয়নি। অথচ এ ফরমায়েশি মামলার রায়ে ৪৭ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার বিএনপির রাজনীতিকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা