রাঙামাটি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:২৯ পিএম
আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:৩৪ পিএম
রাঙামাটি জেলা পরিষদের অধীন সুখী নীলগঞ্জ এলাকায় স্থাপিত মিনি চিড়িয়াখানার নিঃসঙ্গ ভালুকটিকে উদ্ধার করে বনে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ। একই সঙ্গে চিড়িয়াখানাটির অন্য সব বন্য প্রাণীগুলোকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের একটি দল রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পরিচালিত মিনি চিড়িয়াখানায় গিয়ে বন্য প্রাণীগুলো উদ্ধার করে। এরপর সেগুলো নিয়ে যাওয়া হয় কক্সবাজারের চকরিয়ায় অবস্থিত ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক বরাবর চিঠি লিখে মিনি চিড়িয়াখানার বন্য প্রাণীগুলো বন বিভাগকে হস্তান্তরের কথা জানান রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পরিচালিত মিনি চিড়িয়াখানার বন্য প্রাণী পালনকারী সোনাবী চাকমা বলেন, এখানে বনবিড়াল, খরখোস, ভালুক, হরিণ, গুইসাপ ছিল। কিছু কিছু প্রাণী মারা গেছে।
ন্যাচার অ্যান্ড বায়োডাইভার্সিটি অব সিএইচটির মুখপাত্র প্রান্ত রনি বলেন, মিনি চিড়িয়াখানার নামে প্রায় দুই দশক ধরেই বন্য প্রাণীগুলো আটকে রাখে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ।
বন অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. হাতেম সাজ্জাদ মো. জুলকারনাইন বলেন, বন্য প্রাণীগুলোর মধ্যে ভালুকের শারীরিক অবস্থা ভালো। অন্যান্য প্রাণী মোটামুটি আছে।
বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা দ্বীপান্বিতা ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘জেলা পরিষদ কর্তৃক প্রধান বন সংরক্ষকের মাধ্যমে এটি অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল ২০০৮ সালে। তখন উনারা বলেছেন, কিছু প্রাণী রাখতে চান, পরে নিঝুম দ্বীপ থেকে কিছু হরিণ আনার বিষয়ে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে বন অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিছু প্রাণী এনেছিলেন।
বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে এটি ২০১২ সালের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন পরিপন্থি।
রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার বলেন, কোনো প্রাণীকে এভাবে আটকে রাখা উচিত নয়। তাই প্রাণীগুলোর প্রতি মানবিক দিক বিবেচনা করে বন বিভাগকে প্রাণীগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে।