সিলেট অফিস
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:১৪ পিএম
আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:২১ পিএম
সিলেটে ৩০টি যৌতুকবিহীন বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে পাত্র-পাত্রীদের পরিবার ও স্বজনরা উপস্থিত ছিল এবং তারা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে।
সোমবার সিলেট নগরীর একটি কনভেনশন হলে এই গণবিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে দাম্পত্য সম্পর্কে আবদ্ধ হলেন সিলেটের ৩০ তরুণ-তরুণী।
বরদের পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী পাগড়ি আর কনেদের পরনে ছিল লালশাড়ি। অনুষ্ঠানে রীতি অনুযায়ী খাওয়া-দাওয়া আনুষ্ঠানিকতা থেকে শুরু করে সবকিছুই ছিল চোখে পড়ার মতো। গাড়িতে করে অর্ধশত বর-কনে দুপুরে ওয়েডিং হলে এলে অন্য রকম এক পরিবেশ তৈরি হয়।
গণবিয়ের অনুষ্ঠানে আসা বর-কনেরা জানান, আলাদা করে বিয়ের অনুষ্ঠান করার মতো সামর্থ্য নেই তাদের। গরিব হওয়া সত্ত্বেও ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজনে খুশি স্বজনরাও।
এ সময় স্বজনরা জানায়, এমন ধুমধাম করে বিয়ে দিতে পারব তা কল্পনাও করতে পারিনি। এমন সুন্দর পরিবেশে বিয়ে হওয়ায় খুবই আনন্দ লাগছে।
আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, দরিদ্র পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সংকট ও যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ ধরনের গণবিবাহের আয়োজন করা হয়েছে। যৌতুক প্রথা আমাদের সমাজের একটি বড় সমস্যা। এই প্রথা দূর করতে এবং দরিদ্র পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিয়ের পাশাপাশি সংসারজীবন শুরুর জন্য নবদম্পতিদের একটি সেলাই মেশিন, একটি ভ্যানগাড়ি, রান্নার চুলা, কম্বলসহ ঘরের কাজে লাগে এমন নানা সরঞ্জাম দিয়েছে সংস্থাটি।
ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর আবদুল বাছিত জানান, বর-কনে আনা-নেওয়ার জন্য যে গাড়িগুলো রয়েছে সেগুলোও ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।
আল খায়ের ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারেক মাহমুদ জানান, যৌতুকবিহীন এই গণবিয়েতে মসজিদের ইমাম, দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষদের ধুমধামের সঙ্গে নতুন জীবনে পদার্পণ তাদের স্মৃতি হিসেবে থাকবে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।