সমুদ্রপথে ইউরোপ যাত্রা
মাদারীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:০২ পিএম
আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:২৫ পিএম
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ঘরে ঘরে চলছে শোকের মাতম। অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার সময় নৌকাডুবিতে নিহত ২৩ জনের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় মিলেছে। তাদের বাড়ি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায়।
এ ঘটনায় জড়িত দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। পুলিশ বলছে, এ বিষয়ে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা। আর নিহতদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, দালালদের খপ্পড়ে পড়ে গত ১ জানুয়ারি ইতালির উদ্দেশে বাড়ি ছাড়ে মাদারীপুরের রাজৈর পৌরসভার পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের চা-বিক্রেতা হাসান হাওলাদারের ছেলে টিটু হাওলাদার। তার সঙ্গে গোবিন্দপুরের বাসিন্দা আবুল বাশার আকনও যোগ দেন। সম্পর্কে তারা মামা-ভাগ্নে। গত ২৪ জানুয়ারি লিবিয়া থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যাত্রা করেন তারা। মাঝপথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারান আবুল বাশার ও টিটু। গতকাল সোমবার সকালে দুজনের মৃত্যুর খবর এলে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।
নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেনÑ রাজৈর উপজেলার গোবিন্দপুরের ইনসান শেখ, শাখারপাড়ের সজিব মোল্লা সাদবাড়িয়ার রাজীব, সুন্দিকুড়ির সাগর বিশ্বাস, আশিষ কীর্তনীয়া, সাগর বাড়ৈ ও বৌলগ্রামের অনুপ সরদার।
উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপ যাত্রায় ভিটেমাটি বিক্রি করার পাশাপাশি চড়াসুদে টাকা এনে দালালদের হাতে লাখ লাখ টাকা তুলে দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনার মূলহোতা রাজৈর হরিদাসদি গ্রামের স্বপন মাতুব্বর, মজুমদারকান্দি গ্রামের মনির হাওলাদার ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলীপুরের রফিক দালাল। এই ঘটনায় জড়িত দালালদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। পাশাপাশি নিহতের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।
নিহত টিটু হাওলাদারের বাবা হাসান হাওলাদার বলেন, আমি সামান্য চা দোকানি। আমাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ছেলেকে ইতালি নেওয়ার জন্য টাকা নেয়। এখন শুনি ছেলে মারা গেছে। আমি দালালের বিচার চাই।
নিহত আবুল বাসার আকনের ভাই বাচ্চু আকন বলেন, দালালরে টাকা দিয়ে আমরা সর্বস্বান্ত। এখন আমার ভাইয়ের লাশটা অন্তত ফেরত চাই।
নিহত ইনসান শেখের চাচা ইমরান শেখ বলেন, রফিক দালালকে আমরা ৩২ লাখ টাকা দিয়েছি জায়গাজমি বিক্রি করে। এর মধ্যে সুদেও নিয়েছি টাকা। তারপরও আমার ভাতিজাকে বাঁচাতে পারলাম না। ভাতিজার লাশ ফেরত চাই। দালালের কঠিন শাস্তি চাই।
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খান বলেন, দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিহতদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে দূতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হবে।