মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৮:১৩ পিএম
আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৮:১৬ পিএম
১৭ বছর পর জুয়েল মিয়াকে ফিরে পেয়ে খুশি তার পরিবারের লোকজন। প্রবা ফটো
১৭ বছর আগে বাড়ি থেকে অভিমান করে চলে গিয়েছিলেন জুয়েল মিয়া নামের এক যুবক। সে সময় তার বয়স ছিল ২৭ বছর। এরপর দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করেও পাননি। পরিবারের সদস্যরা তাকে পাওয়ার আশা অনেকটা ছেড়ে দিয়েছিলেন। জুয়েলের পরিবার ধরে নিয়েছিলেন তিনি আর জীবিত নেই। অবশেষে দীর্ঘ ১৭ বছর পর শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাড়ি ফিরেন জুয়েল মিয়া।
জুয়েল মিয়া জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পূর্ব চরপাকেরদহ এলাকার মৃত মোনাজ প্রামানিকের ছেলে। এখন জুয়েল মিয়ার বয়স ৪৪ বছর। জুয়েল মিয়াকে ফিরে পেয়ে খুশি তার পরিবারের লোকজন। তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি।
জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর আগে জুয়েল মিয়া তার স্ত্রীকে তালাক দেন। এরপর সেই স্ত্রীর অন্যজনের সাথে বিয়ে হয়। বিবাহ বিচ্ছেদের পরের বছর জুয়েল মিয়া তার বড় ভাই মোতাহারের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর অভিমান করে দুই সন্তান রেখে বাড়ি ছাড়েন। এরপর থেকে কোনো হদিস ছিল না তার। পরিবারের লোকজন মনে করেছিলেন জুয়েল মিয়া হয়ত বা আর জীবিত নেই।
জুয়েল মিয়া বলেন, গত ১৭ বছর তিনি গাজীপুরে ছিলেন। এখন বাকি জীবন তার ছেলে মেয়েদের সাথে কাটাবেন বলে বাড়ি ফিরে আসছেন। ছেলে মেয়েদের কাছে পেয়ে তিনি অনেক আনন্দতি।
জুয়েলের বড় মেয়ে মুক্তি আক্তার বলেন, আমরা বাবা-মায়ের আদর-স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। দীর্ঘ ১৭টি বছর বাবা-মায়ের ভালবাসা পাইনি। আমাদের বাবা আমাদের কাছে ফিরে এসেছেন। তাতেই আমরা অনেক আনন্দিত যা বলে প্রকাশ করতে পারব না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘জুয়েল মিয়া আমার পাশের বাড়িতে থাকতেন। তাকে ভালভাবে চিনি। গত ১৭ বছর আগে সে নিখোঁজ হয়। আমরা ধরেই নিয়েছিলাম হয়ত সে আর জীবত নেই। কিন্তু তার আগমনে তার পরিবারসহ এলাকাবাসী অনেক আনন্দতি।’
চরপাকেরদহ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘জুয়েল মিয়া ফিরে আসাতে তার পরিবার ও স্বজেনেরা খুবই আনন্দিত। সে তার পৈত্রিক বসতবাড়িতে থাকতে চাইলে আমাদের সকল ধরনের সহযোগিতা পাবেন।’