সংবাদ সম্মেলনে দাবি
বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৮:০১ পিএম
আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৮:০৪ পিএম
নিহত আলমগীর সিকদারের ছেলে মোহাম্মদ আলী হায়দার সোমবার বান্দরবান প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বাবার হত্যার বিচার চেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
বান্দরবানের লামায় ৬ বছর আগে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মোহাম্মদ আলী হায়দারের বাবা আলমগীর সিকদারকে। সেই থেকে দায়ের করা হত্যা মামলাটি তুলে নিতে পরিবারের অন্য সদস্যদেরকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে হত্যাকারীরা। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বান্দরবান প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান নিহত আলমগীর সিকদারের ছেলে মোহাম্মদ আলী হায়দার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহত আলমগীর সিকদারের ভাই মোহাম্মদ দস্তগীর সিকদার মানিক বলেন, ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে লামা সরই পুলাং পাড়ায় নিজের মুরগি খামার থেকে ফেরার পথে রাবার বাগান পৌঁছালে সেলিম উদ্দিনসহ তার সহযোগিরা আলমগীর সিকদারকে কুপিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে দুই হত্যাকারী সায়মন ত্রিপুরা ও বীর বাহাদুর ত্রিপুরাকে গ্রেপ্তার করে। সেলিম উদ্দিনসহ ৬ জন মিলে আমার ভাইকে হত্যা করেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্বীকারোক্তি দেয় আসামিরা। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হওয়া সাবের আহমদও একই স্বীকারোক্তি দেয়। সেলিম উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন ভেট্টু ও তার ভাই জমির উদ্দীন আলমগীর সিকদারের হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারী এবং নিজেরাও হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত মর্মে আসামি সায়মন ত্রিপুরা, বীর বাহাদুর ত্রিপুরা ও সাবের আহমদ আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে স্বীকার করেন।
এছাড়া পুলিশ তদন্তে হত্যার আগের দিন বিভিন্ন স্থানে অন্যান্য হত্যাকারীসহ সেলিম উদ্দিনের স্বশরীর উপস্থিতির সিসিটিভি ফুটেজ, লোহাগাড়া মামনি হাসপাতালে যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ, লোহাগাড়ায় আবাসিক হোটেলে অবস্থান করার ফুটেজ প্রমাণ পায়। এমনকি যে কামারের দোকানে হত্যা করার জন্য দা বানিয়েছে সে ফুটেজও খুঁজে পায় তদন্তকারী কর্মকর্তা। তারপরও খুনি সেলিম, জোড়া খুন হত্যা মামলার আসামি ভেট্টু ও জমির আজ পর্যন্ত পলাতক। তবে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সচল রেখেছেন। তারপরও গত ৬ বছরেও তারা গ্রেপ্তার হয়নি। হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্রমাগত মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে।
সর্বশেষ গত বছরের ২২ আগস্ট ঢাকার মতিঝিল থেকে কোরিয়ারে স্বপরিবারে নির্মূল করার লিখিত হুমকি পাঠায় হত্যাকারী সেলিম। তাই এসব হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত আলমগীর সিকদারের বাবা মো. আলী সিকদারসহ বান্দরবানে কর্মরত সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।