গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৬:৫০ পিএম
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গ্রেপ্তার আসামি ছিনিয়ে নিতে পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটানায় মামলা করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টুঙ্গিপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাব্বি মুরসালিন বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে এ মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আসামি হিসেবে ১০৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ৪০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলা ও ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন স্কুল এ্যন্ড কলেজের সামনে থেকে সরকারবিরোধী লিফলেট বিতরণ করার অভিযোগে সাফায়েত গাজীকে আটক করে টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশ। এ সময় কয়েকজন মহিলাসহ এলাকাবাসী এসে বাধা দেয়। সাফায়েত গাজীকে গাড়িতে উঠানোর খবর শুনে টুঙ্গিপাড়া গ্রামের উত্তরপাড়া কবিরাজ বাড়ি জামে মসজিদের মাইক থেকে এলাকাবাসীদের এগিয়ে আসার জন্য মাইকিং করা হয়। এ সময় শাফায়েত গাজীকে আটক করে ওসির গাড়িতে টুঙ্গিপাড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে থানার আরেকটি গাড়ি ঘটনাস্থলে এলে এলাকাবাসী পুলিশের গাড়ি গতিরোধ করে। এলাকাবাসী ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সাথে পুলিশের বাকবিতণ্ডা বাধে। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদেরকে অবরুদ্ধ করে গাড়ি ভাংচুর করে স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে থানার ওসি খোরশেদ আলমসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এলে তারাও তোপের মুখে পড়ে হামলার শিকার হন। হামলায় টুঙ্গিপাড়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন) খন্দকার আওরঙ্গজেব, এস আই শরিফুল ইসলাম, এএসআই হাফিজুর রহমান, আব্দুল খালেকসহ ৬ পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা, আটকের চেষ্টা, অপরাধ সংগঠনের ষড়যন্ত্র, সাহায্য ও সহায়তা করা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, আঘাত করে জখম করাসহ সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিসাধন করায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে সাফায়েত গাজীকে প্রধান আসামি করে ৫০৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশ।
এ ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে রাতে সেনাবাহিনীর একটি সাজোয়া দল টুঙ্গিপাড়া থানায় যায়। সেখানে তারা সারারাত অবস্থান শেষে সোমবার সকালে আবার গোপালগঞ্জ ক্যাম্পে ফিরে আসে।
মামলার প্রধান আসামী গ্রেপ্তার সাফায়েত গাজীকে সোমবার বিকালে গোপালগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানান ওসি খোরশেদ আলম।