বেড়া-সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:০৬ পিএম
আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:২১ পিএম
পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুরের বাঁধেরহাট এলাকায় ভয়াবহ আগুনে ১৪টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে আগুন লাগার এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা বাড়ি চলে যান। রাত আড়াইটার দিকে তারা খবর পান মার্কেটে আগুন লেগেছে। বাড়ি থেকে আসতে যত সময় ততক্ষণেই আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কাশিনাথপুর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়দের নিয়ে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে ওই বাজারের ১৪টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এতে প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এখনও আগুনের সূত্রপাত শনাক্ত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।
নিজাম উদ্দিন নামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী জানান, ওই মার্কেটে মদিনা জুয়েলার্স নামে স্বর্ণের একটি দোকান ছিল তার। প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। রাত ৩টার দিকে খবর পেয়ে এসে দেখেন সব পুড়ে ভস্ম হয়ে গেছে।
আমিনপুর থানার চরপাড়া এলাকার চাঁদ আলী মেম্বার অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘কিছু দিন আগে এখানে মারামারি হয়েছিল। শনিবার একটি মিছিল হয়েছে। তারপরেই রাত আড়াইটায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটল।’ তবে কারা মারামারি করেছে বা শনিবার কারা মিছিল করেছেÑ এ ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বাঁধেরহাট বাজারের সভাপতি গাজী শহিদুল্লাহ্ অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বাজারের নাইট গার্ডের জবানবন্দি নিয়েছি। সে আগুন লাগার বিষয়ে কিছু বলতে পারছে না। কাউকে আগুন লাগাতে দেখেনি।’
কাশিনাথপুর ফায়ার সার্ভিসের অফিসার্স ইনচার্জ আহসান মুসা বলেন, ‘দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাত এখনও শনাক্ত করতে পারিনি। ধারণা করছিÑ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে।’
আমিনপুর থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় সহায়তা করা হয়েছে।’ বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি ওই বাজারে মারামারি হয়েছে। আজও (গতকাল) হচ্ছে বলে শুনেছি। মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিং থাকায় সকালে যেতে পারিনি। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। আমিনপুর থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাতে পারব। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’