টাঙ্গাইলে ফারুক হত্যা
টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৭:৪৯ পিএম
আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৮:০০ পিএম
টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এই মামলার প্রধান আসামি সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার অপর তিন ভাইসহ ১০ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মাহমুদুল হাসান চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন দণ্ড প্রাপ্ত দুইজন হলোÑ কবির হোসেন ও মোহাম্মদ আলী। মোহাম্মদ আলী ২০১৪ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ফারুক হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। তার জবানবন্দিতে এই হত্যার সঙ্গে রানা ও তার ভাইদের জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। রানা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর গত ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে চলে যান। অপর দণ্ডিত কবির হোসেন ২০১৪ সাল থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।
বেকসুর খালাসপ্রাপ্তরা হলো- সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা, তার অপর তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা। এছাড়া খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, সানোয়ার হোসেন সানু, নূরু, বাবু, ফরিদ হোসেন, মাসুদুর রহমান, আলমগীর হোসেন চাঁনে। মামলা চলাকালে দুই আসামি আনিসুল ইসলাম রাজা ও সমির কারাগারে মারা যায়।
রায় ঘোষণার সময় কারাগার থেকে সহিদুর রহমানকে হাজির করা হয়। এছাড়া জামিনে থাকা আসামি বাবু ও নূরু হাজির হন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাইদুর রহমান ওরফে স্বপন বলেন, ‘দণ্ডিত দুইজনকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান।
রায় ঘোষণার পর নিহত ফারুক আহমেদের ছেলে আহমেদ মজিদ সুমন জানান, মামলা থেকে তদন্ত, আদালতে অভিযোগ গঠন, সাক্ষীগ্রহণ বিভিন্ন পর্যায়ে আসামিরা বিচার প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এই মামলার আসামিদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবী নেতারা। তারা ৫ আগস্টের পর আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এইসব আইন কর্মকর্তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। এর আগেও যারা আসামিদের ভয়ে আইনজীবীরা স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি।
২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ২০১৪ সালের আগস্টে এই হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আনিসুল ইসলাম ওরফে রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামক দুইজনকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তারা আদালতে জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দিতে আওয়ামী দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান ওরফে রানা, তার ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার নাম বের হয়ে আসে।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওয়াহেদ, আবদুল খালেক ও সনি আদালতে জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দিতেও হত্যার বর্ণনা উঠে আসে। এরপর চার ভাই আত্মগোপনে চলে যান। আমানুর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তিন বছর হাজতে থাকার পর জামিন লাভ করেন। ৫ আগস্টের পর তিনি আবার আত্মগোপনে চলে যান। অপর দুই ভাই ২০১৪ সাল থেকে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে তাদের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মাহফীজুর রহমান ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আমানুররা চার ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। গত ২৬ জানুয়ারি ফারুক হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়।