আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:৫৮ পিএম
আদালতের নির্দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতের ৬ মাস পর পরিচয় সনাক্ত ও মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে চারজনের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আশুলিয়ার পবনারটেক, বুড়িরবাজারের আমবাগান এবং ইউনিক চাড়ালপাড়া এলাকার দরগারপাড় কবরস্থান থেকে মরদেহগুলি উত্তোলন করা হয়। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আশুলিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তারের নেতৃত্বে পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার ধামসোনার দক্ষিণ বাইপাইল চারালপাড়া কবরস্থান থেকে জাহিদুল হাসান সাগর নামের একজনের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। তিনি রংপুর জেলার তাজহাট থানার দুর্গাপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকা থেকে আশরাফুল ইসলাম নামের একজনের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। গত ৫ আগস্ট আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি। পরে ৬ আগস্ট সকালে তাকে ভাদাইল পবনারটেক কবরস্থানে দাফন করে পরিবার। এদিকে আশুলিয়ার বগাবাড়ী আমতলা কবরস্থান থেকে আরও দুটি মরদেহ উত্তোলন করা হয়। গত ৫ আগস্ট গুলিবিদ্ধ এই দুটি মরদেহ অজ্ঞাতনামা হিসাবে স্থানীয়রা দাফন করেছিলো। পরে একটি ভিডিওতে মরদেহের ছবি দেখে নিহত আবুল হোসেনের স্ত্রী লাকী আক্তার স্বামীকে চিনতে পারেন। পশ্চিম বাইপাইল এলাকায় ভাড়া থাকতেন তারা। আরেকটি মরদেহ এখনো অজ্ঞাতনামা রয়েছে। তার পরিবার-স্বজন পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, সেদিন আগুনে পোড়ানো লাশের মধ্যে চারটি লাশের সাথে আইডি কার্ড থাকায় পরিবারের লোকজন তাদের লাশগুলো শনাক্ত করে নিয়ে যায়। বাকি দুটি লাশের পরিচয় না পাওয়ায় ৬ আগস্ট রাতে আমবাগান কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আশুলিয়া থানার ওসি মো. নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, গত ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানা এলাকায় বেশ কিছু হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেগুলো নিয়ে পরে মামলাও করা হয়েছে। তখন মরদেহগুলো সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছিল। মামলার তদন্তের স্বার্থে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনায় লাশগুলো উত্তোলন করা হয়েছে।
আশুলিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আক্তার বলেন, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে ৫ আগস্ট নিহত চারজনের মরদেহ উত্তোলন করেছি। এর আগে নিহতের স্বজনরা আদালতে মামলা করলে আদালত মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। উত্তোলন করা মরদেহগুলোর সুরতহাল শেষে ডিএনএ টেস্ট এবং ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।