জয়পুরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:৩৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জয়পুরহাটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিতে নিহতের ঘটনায় দুটি হত্যাসহ ছয় মামলায় আসামি জয়পুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মোস্তাককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর আসলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এর পর জয়পুরহাট গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ তাকে জেলায় নিয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে কড়া নিরাপত্তায় জয়পুরহাট সদর থানা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয়। এ সময় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কারাগারে নেওয়ার সময় আদালতের ফটকে বিক্ষুব্ধ লোকজন ফাঁসি চেয়ে মোস্তাকের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর জয়পুরহাট পৌরসভার অপসারিত মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক আত্নগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে জয়পুরহাটে একাধিক মামলা করা হয়। তিনি যাতে কোথাও পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল। এমনকি বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন এমন আশঙ্কায় ইমিগ্রেশন পুলিশকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়। তিনি মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য বুধবার হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর আসেন। বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ ওইদিন সকাল ১১টায় মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাককে গ্রেপ্তার করে। খবর পেয়ে জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা পুলিশের (ডিবি) একটি দল ঢাকায় গিয়ে রাতেই তাকে জয়পুরহাট থানায় নিয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সদর থানা থেকে কড়া নিরাপত্তায় তাকে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। সদর আমলি আদালতের বিচারক আসামি মোস্তাফিজুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। খবর পেয়ে আদালতের মূল ফটকে বিক্ষুব্ধ লোকজন জড়ো হন। পুলিশ মোস্তাফিজুর রহমানকে আদালত থেকে বের করে কারাগারে নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন আদালতের মূল ফটকের সামনের বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা ‘মোস্তাকের দুই গালে জুতা মারো তালে-তালে’, ‘মোস্তাকের ফাঁসি চাই’- এমন স্লোগান দেন।
জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন বলেন, ‘জয়পুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান দুটি হত্যাসহ ছয় মামলার আসামি। তিনি চারটি মামলায় হাইকোর্টের জামিনে আছেন। আর দুটি হত্যা মামলায় তাকে পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।’
জয়পুরহাট আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘আসামি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাককে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সদর আমলী আদালতে নেওয়া হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানো রআদেশ দেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’