বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ ১১:৪৬ এএম
বুধবার বাঞ্ছারামপুরের মরিচাকান্দি সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান। প্রবা ফটো
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের মরিচাকান্দি সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে চারটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে চারজনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও আরও দুই আসামি অপ্রাপ্ত বয়স হযওয়ায় মুচলেখা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়। জব্দ করা ড্রেজার মেশিন পুলিশী পাহাড়ায় নিয়ে এসে সলিমগঞ্জ নৌ পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার মরিচাকান্দি মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে এসব ড্রেজার মেশিন জব্দ করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফৈরদৌস আরা ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা এক্সিকিউটিভ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কানাইনগর গ্রামের রশিদ মিয়ার ছেলে মো. নীরব মিয়া (১৯), বরিশাল মেহেন্দীগঞ্জের আবুল হোসেন বেপারীর ছেলে মো. সোহাগ (১৯), নরসিংদীর মুরাদনগরের ইউসুফ আলীর ছেলে মো. শাহিন(৩২), পিরোজপুর মঠবাড়িয়ার আবু ছালে মিয়ার ছেলে মো. আবদুল্লাহ (২৪)।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মরিচাকান্সোদি সংলগ্ন বাঞ্ছারামপুর ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে কয়েকদিন ধরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল নরসিংদী উপজেলার ও রায়পুরা উপজেলার কয়েকজন ব্যক্তি। খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা ও উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এসময় চারটি ড্রেজার মেশিন ও চার জনকে আটক করেন। জব্দকৃত ড্রেজার মেশিন পুলিশী পাহাড়ায় নিয়ে এসে সলিমগঞ্জ নৌ পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়।
পরে তাদের বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের ২০১০ এর ১৫ ধারায় প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফৈরদৌস আরা বলেন, কানাইনগর থেকে আমরা ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছি। তারা স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে তারা অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত। তাদের মধ্যে দুইজন নাবালক হওয়ায় মুচলেকা রেখে তাদের এক আত্মীয়র কাছে সোপর্দ করেছি। বাকি চারজনকে স্বীকারোক্তিমূলক সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাদেরকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদন্ডে দণ্ডিত করেছে। আমরা স্থানীয়ভাবে চারটি ড্রেজার জব্দ করেছি যার কোনো মালিক তাৎক্ষণাৎ পাইনি তাই নিয়ে এসেছি। যদি তারা তাদের বৈধ মালিকানা প্রমাণ করতে পারে এভাবে আমরা ব্যবস্থা নিব আর যদি প্রমাণ করতে না পারে সরকারি নিয়ম-নীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে জব্দ করা ড্রেজার মেশিন নিলামে বিক্রি করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।