কক্সবাজার
নুপা আলম, কক্সবাজার
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ ১০:১১ এএম
একসময় বিরান হওয়া পাহাড়ি ভূমি সবুজ চারায় ভরে গেছে। সম্প্রতি কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের দোয়ালের ঝিরি এলাকায়। প্রবা ফটো
কক্সবাজারের রামুর জোয়ারিয়ানালার বিরানভূমিতে পরিণত হওয়া একসময়ের পাহাড়গুলো আবার ঢেকে যাচ্ছে সবুজে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য সৃষ্টি ও খাদ্যসংকটে থাকা হাতির সঙ্গে মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে গড়ে তোলা হচ্ছে বনায়ন। ইতোমধ্যে বনের সুফল পাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও বন্য প্রাণী।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগ সূত্র বলছে, সরকারের টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের আওতায় গত বর্ষা মৌসুমে রামুর জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উখিয়ারঘোনায় ২১২ হেক্টর, দোয়ালের ঝিরিতে ১৫০ হেক্টর, ব্যাংডেবার টিটিলাঘাটে ১৫০ হেক্টরসহ মোট ৫১২ হেক্টর বনভূমিতে দ্রুত বর্ধনশীল ১২ লাখ ৮০ হাজার চারা লাগানো হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। রোপণ করা চারাগাছের মধ্যে রয়েছে চিকরাশি, শিমুল তুলা, কদম, আমলকি, অর্জুন, কাঞ্জলভাদি বকাইন, দাদমর্দন, ওলটকম্বল, কৃষ্ণচূড়া, গামার ও কাঠবাদাম। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে চারাগাছগুলো বড় হলে পাহাড়ি এলাকাগুলোর পরিবেশ বদলে যাওয়ার পাশাপাশি বননির্ভর জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ কমবে। এরই মধ্যে এই বনায়নকে কেন্দ্র করে হাজারের অধিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এককালে রামুর জোয়ারিয়ানালার এই প্রাকৃতিক বনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও বন্য প্রাণীতে ভরপুর ছিল। কিন্তু বনখেকোদের আধিপত্যের কারণে কয়েক বছরের ব্যবধানে বনভূমি উজাড় হয়ে যায়, বিলুপ্ত হয়ে যায় বন্য প্রাণী। এমনকি খাদ্যসংকটে পড়ে লোকালয়ে হাতি ঢুকে পড়ায় ঘটে প্রাণহানির মতো ঘটনা।
সম্প্রতি সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দেখা যায়, রোপণ করা সতেজ ও সবুজ চারাগুলোর কারণে সেখানে প্রাণ ফিরে এসেছে। আলাপকালে স্থানীয়রা জানায়, পাহাড়গুলোতে বাগান করায় সেখানে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাদের প্রতিদিন কাজের জন্য অন্য কোথাও যেতে হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল কবির বলেন, ‘পাহাড়ে রোপণ করা চারাগুলো দূর থেকে দেখলে মনে হয় সবুজ অট্টালিকা। অথচ এই পাহাড়গুলো বিগত সময় অযত্ন ও অবহেলায় বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছিল।’
সুফলভোগী আবদুল মোনাফ বলেন, ‘বিগত সময়ে অপরিকল্পিত ও অতিরিক্ত গাছকাটা ও বন উজাড়ের কারণে ৩০ বছর ধরে এই বনভূমি অনাবাদি ছিল। এই বনভূমিতে নতুনভাবে বনায়ন সৃষ্টি হওয়ায় আমরা উপকৃত হচ্ছি।’
জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা কেএম কবির উদ্দিন বলেন, ‘বনায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সৃজিত বাগানের চারাগাছগুলো সফল বনে পরিণত হবে। পরিবেশ ও প্রতিবেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সুফল প্রকল্পের আওতায় ২১০ জন সুফলভোগীকে আর্থসামাজিক উন্নয়নে ৮০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। এই টাকা দিয়ে তারা পশু পালন ও কৃষিকাজ করে সাবলম্বী হচ্ছেন। ৭২৬টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।’
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন বলেন, ‘বনসংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ও বননির্ভর জনগোষ্ঠীর বিকল্প জীবিকার সংস্থানের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ফলে বনের ওপর মানুষের চাপ কমে আসবে।