× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

৬ ভাগের ১ ভাগ পানিও নেই তিস্তায়, চাষাবাদ ব্যাহত

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ ১৪:২০ পিএম

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ ১৫:২১ পিএম

ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্ট। ছবি : প্রবা

ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্ট। ছবি : প্রবা

তিস্তায় পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ না থাকায় সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না অনেক আবাদি জমিতে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ। দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তায় চাষাবাদের আওতাভুক্ত জমির পরিমাণ ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩১০ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদযোগ্য জমি রয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৯০ হেক্টর। তার মধ্যে ৮৪ হাজার ৩৭৮ হেক্টর আর সেচযোগ্য জমি । এ বছর প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে ১৪ হাজার কিউসেক পানি রিজার্ভ থাকার কথা। অথচ আছে মাত্র আড়াই হাজার কিউসেক পানি। পানির এই ভয়াবহ শঙ্কা নিয়েই এ বছরের ১৫ জানুয়ারি রংপুর ও দিনাজপুরের প্রধান সেচ খালে পানি ছাড়া হয়। 

কৃষকদের শঙ্কা, এবারও তিস্তার পানি দিয়ে শতভাগ সেচ দেওয়া সম্ভব হবে না। অনেক জমিতে তাদেরকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেচ দিতে হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুরের ১২ উপজেলায় ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় গত বছর ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া হয়। ৮৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধার কথা থাকলেও তিস্তায় পানি সংকট ও নানান জটিলতায় ২০১৪ সালে তিন জেলায় মাত্র ৮ হাজার হেক্টর, ২০১৫/১৬ সালে ১০ হাজার হেক্টর, ২০১৭ সালে ৮ হাজার হেক্টর, ২০১৮ সালে ৩৫ হাজার হেক্টর, ২০১৯ ও ২০ সালে ৪০ হাজার হেক্টর, ২০২১ সালে ৫৩ হাজার হেক্টর, ২০২২ ও ২৩ সালে ৩৫ হাজার হেক্টর এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হয়েছিলো।

তিস্তা সেচ এলাকার কৃষকরা বলছেন, জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত সেচ প্রকল্পের আওতায় প্রতি বিঘা জমিতে সেচ খরচ পড়ে মাত্র ১৬০ টাকা। পর্যাপ্ত পানি না পেলে সেচযন্ত্র বা শ্যালো মেশিন ব্যবহার করলে বিঘাপ্রতি সেচ খরচ অনেক গুণ বেড়ে যায়। যা বিঘা প্রতি কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয় এবং সেচ যন্ত্র স্থাপনেও গুণতে হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। তারা প্রকল্পের সেচের পানির অপেক্ষায় থাকেন, কিন্তু  কোনো সময় ঠিকমতো পানি মেলে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের মুখ্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অমলেশ চন্দ্র রায় জানান,  ব্যারাজ পয়েন্টে স্বাভাবিক প্রবাহমাত্রা থাকা প্রয়োজন ২০ হাজার কিউসেক পানি। শুধু সেচ প্রকল্প চালাতেই প্রবাহমাত্রা থাকা প্রয়োজন ১৪ হাজার কিউসেক।  সব স্লুইস গেট বন্ধ করে সেচের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে ব্যারাজের ভাটিতে তিস্তায় আর প্রবাহ থাকছে না। শুষ্ক মৌসুমে ভারতের একচেটিয়া পানি প্রত্যাহারের কারণে বাংলাদেশ অংশে তিস্তার পানি ক্রমাগত কমে গেছে।

তিস্তায় হিস্যা অনুযায়ী পানি আদায়ে বার বার ব্যর্থ হয়েছে যৌথ নদী কমিশন। উত্তরের প্রাত্যহিক জীবন-জীবিকা তিস্তার পানির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সমতল ভূমিতে তিস্তা অববাহিকার পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ১০৮ বর্গ কিলোমিটার। এর প্রায় অর্ধেক অংশ পড়েছে বাংলাদেশের সীমানায়। দুই দেশই তিস্তার পানির সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন সময়ে নদীর ওপর ও আশপাশে ব্যাপক অবকাঠামো তৈরি করলেও মেলেনি প্রতিকার। তিস্তা চুক্তি নিয়ে ২০১১ সালের পর থেকে এক পা-ও এগুতে পারেনি কমিশন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, রংপুর-এর  তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, 'লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তা ৩০ হাজার হেক্টর ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমানে ব্যারাজ পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রয়েছে আড়াই হাজার কিউসেক। এর থেকে আরও কমলে সেচের পানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটবে।'

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা