ছাত্র-জনতার আন্দোলন
তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ ১০:০৮ এএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ ১১:১১ এএম
প্রতীকী ছবি
অপরাধমূলক কার্যক্রম রুখতে যশোর শহরের গুরুত্বপূণ স্থানে বসানো হয় ৬২টি সিসি ক্যামেরা। এগুলো বসানোর ফলে শহরে কিশোর গ্যাং, চুরি-ছিনতাই, মাদকসহ নানা অপরাধ কমে আসে। কিন্তু জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে এগুলো বিকল করে ফেলা হয়। শিক্ষার্থীদের ওপর গত সরকারের পেটোয়া বাহিনীর হামল-নির্যাতন-গুলির ভিডিও যাতে ধারণ না হয়, তাই বিকল করার এটাই ছিল কারণ।
ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অধিকাংশ ঘটনাই সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েনি। যেসব সাংবাদিক ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ভিডিও ধারণ করেছিলেন, সেগুলোও আবার অজ্ঞাত কারণে সবার সামনে প্রকাশ করা হয়নি। যশোর শহরবাসীর গতিবিধির ওপর নজর রাখতে বসানো সেই ৬২ সিসি ক্যামেরার মধ্যে এখন সচল আছে মাত্র ৬টি।
এখনও ৫৪টি বিকল অবস্থায় রয়েছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিল যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়। নষ্ট সিসি ক্যামেরাগুলো সচল না হওয়ায় শহরের ওপর নজরদারি পূর্ণাঙ্গভাবে করা যাচ্ছে না। এতে শহরে চুরি, ছিনতাইসহ বড় ধরনের অপরাধ প্রবণতা বেড়ে গেছে।
জানা যায়, শহরের মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১৫-এর অক্টোবর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। আর শহরের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এগুলো বসানো হবে। সেই অনুসারে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭৬টি সিসি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা করা হয়। পর্যায়ক্রমে ২০১৮ সালে ২১০টি বসানো হয়।
২০১৯ সাল পর্যন্ত এ ক্যামেরাগুলো সচল ছিল। নিম্নমানের হওয়ায় এবং পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় কিছু সংখ্যক অচল হয়ে পড়ে। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সেগুলো সচল করার তাগিদ দেওয়া হয়। দুই বছর আগে ৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা দিয়ে ৬২টি পুনরায় স্থাপন করা হয়। এসব ক্যামেরায় নজরদারি চালানো হতো পুলিশ সুপারের নতুন ভবনের কার্যালয় থেকে।
তবে জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলন বেগবান হলে এসব সিসি ক্যামেরার বেশিরভাগ নানা কৌশলে অকেজো করে ফেলা হয়।
যশোর পৌরসভার সিসি ক্যামেরা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান মার্কস ট্রেডার্সের মেহেদী হাসান বলেন, গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত সব ক্যামেরাই সচল ছিল। রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে। দড়াটানা, গাড়িখানা, চারখাম্বার মোড়, কোর্টের মোড়ে বেশিরভাগ সিসি ক্যামেরাই চুরি গেছে। চৌরাস্তায় বসানোগুলো আছে, কিন্তু সেগুলোর কেবল নেই।
তবে সার্কিট হাউস মোড়, চুয়াডাঙ্গা পুরোনো বাসস্ট্যান্ডসহ আরও কয়েকটি স্থানে ক্যামেরাগুলো সচল আছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান ভালোমানের ক্যামেরা বসিয়েছে। শুধু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। তা ছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন রুখতেও এগুলো নষ্ট করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
যশোর পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) সাইফুজ্জামান তুহিন বলেন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্দেশ পেলে ফের সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ করা হবে।
যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুব রহমান খান বলেন, জুলাইয়ের আগে এগুলো ভালো ছিল। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার দৃশ্য যাতে সিসি ক্যামেরায় ধরা না পড়ে, সেজন্য পরিকল্পনা মোতাবেক এগুলো নষ্ট করা হয়। ফের নতুন সিসি ক্যামেরা বসানো উচিত বলে মন্তব্য করেন এই ব্যবসায়ী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, সিসি ক্যামেরা আন্দোলনের শুরুতে ইচ্ছে করেই বিকল করা হয়েছে। আন্দোলনের দমন-নিপীড়নের ভিডিও ফুটেজ যেন না থাকে, সেজন্য এ কাজ করা হয়েছে।
যশোর পুলিশ সুপার জিয়াউদ্দিন আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমি এখানে (যশোর) আসার পর থেকে দেখছি সিসি ক্যামেরাগুলো বিকল। ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে পারিনি। আজই খোঁজ নেব। কারও অবহেলা থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।