খুলনা অফিস
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:৪১ পিএম
গােলাম রব্বানি।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ ছাত্র অর্ণব কুমার সরকার হত্যার ঘটনায় খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে। গত শনিবার রাতে নিহতের বাবা নিতিশ কুমার সরকার বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
তিনি অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ এ মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক অর্ণবের বন্ধু গোলাম রব্বানীকে (২৬) গ্রেপ্তার দেখিয়ে রবিবার (২৬ জানুয়ারি) আদালতে পাঠিয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, ‘হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও অস্পষ্ট। তবে গোলাম রব্বানীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কারণ উদঘাটন হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছেÑ অর্ণবের বাবা নিতিশ কুমার সরকারের কনস্ট্রাকশন ব্যবসার বিরোধ, অর্ণব কিশোর গ্যাং বা অপরাধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, নারীঘটিত কোনো কারণ ও ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো বিরোধ।’
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অর্ণব হত্যা মামলায় শনিবার রাতে রব্বানীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রব্বানীর সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে।’
এদিকে গোলাম রব্বানীর স্ত্রী রেশমি আক্তার দাবি করেন, অর্ণব হত্যার সঙ্গে তার স্বামী জড়িত নন। পুলিশ গত শনিবার ভোরে অর্ণবকে তার গোবরচাকা এলাকার বাসা থেকে নিয়ে যায়। যেদিন হত্যাকাণ্ড ঘটে, সেদিন রব্বানী বন্ধুদের সঙ্গে ছিলেন। পুলিশের সন্দেহের কারণ হচ্ছেÑ অর্ণবকে সর্বশেষ ফোনটি তার স্বামী করেছেন। তবে অন্য দুই বন্ধুকে ছেড়ে দিয়ে কেবল তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদি তিনি অপরাধী হতেন, তাহলে আত্মগোপন করতেন। অথচ তিনি নিজ বাড়িতেই ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অর্ণব ঘটনার আগে তেঁতুলতলা মোড়ে বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে চা পান করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে সাতজন সন্ত্রাসী সেখানে উপস্থিত হয়। তাদের মধ্যে একজন শটগান দিয়ে অর্ণবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর আরও তিন রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। অন্য সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
এক পথচারী জানায়, গুলির আগে অর্ণব নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলছিলেনÑ আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। এরপর এক সন্ত্রাসী বলেÑ তুই তো ওই গ্রুপের সদস্য। এ কথা বলার পরই তাকে গুলি করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অর্ণব হত্যায় মোট সাতজন সন্ত্রাসী জড়িত ছিল। তাদের প্রত্যেকের মুখ মাফলার দিয়ে ঢাকা ছিল। একজনের হাতে শটগান এবং বাকিদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল।
এদিকে অর্ণব হত্যার প্রতিবাদে গতকাল রবিবার সকালে খুলনার কেডিএ অ্যাভিনিউয়ে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।