কালাইয়া ট্রাকস্ট্যান্ড দখল
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ ১৮:৩২ পিএম
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ ১৯:১৩ পিএম
পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া বন্দর ধানহাট ট্রাকস্ট্যান্ডের দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়ার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। রবিবার পুলিশ বলছে, যেকোনো সংঘাত এড়াতে সজাগ দৃষ্টি রয়েছে।
এ ঘটনায় গত শনিবার রাতেই দাশপাড়া
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজমসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ
দিয়েছেন কালাইয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্ট্যান্ড পরিচালনা
কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন হাওলাদার।
অভিযোগ, স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত
সরকারের আমলে কালাইয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মোল্লা ও ওয়ার্ড
যুবদলের সভাপতি পল্টু খানের নিয়ন্ত্রণে ছিল ট্রাকস্ট্যান্ড। সরকার পতনের পর দাশপড়া
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজমের অনুসারীরা ট্রাকস্ট্যান্ড দখলে নিয়ে যায়। পরে গত
২ ডিসেম্বর জেলা ট্রাক,
ট্যাংক, পিক-আপ শ্রমিক ইউনিয়ন পৌর স্বেচ্ছাসেবক
দলের আহ্বায়ক আশরাফ আলী সরদারকে সভাপতি ও আরিফ হাওলাদারকে সাধারণ সম্পাদক করে কালাইয়া বন্দর ট্রাকশ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয় পরিচালনার
দায়িত্ব দেয়। কমিটির লোকজন স্ট্যান্ড পরিচালনা করতে শুরু করেন। গত শনিবার আলী আজমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনির
মীর, শ্রমিক দল নেতা সাহেব আলী, আবুল বশার, তাহের, ফারুকসহ
২০-৩০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে স্ট্যান্ড দখল করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে
পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে আফজাল হোসেন, উজ্জল
ও মোতালেব আহত হন।
স্ট্যান্ড পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন জানান, বিএনপি নেতা আলী আজমের পক্ষে
কোনো কাগজপত্র নেই। তার লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে স্ট্যান্ড দখল করতে চায়। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে সহায়তা চেয়েছি। প্রশাসনের কাছে দাবিÑ তারা বৈধ
কাগজপত্র দেখে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে যেন সহায়তা করে।
স্ট্যান্ড জোর করে দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন দাশপাড়া বিএনপি সভাপতি আলী আজম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘যিনি
(আরিফ) অভিযোগ দিয়েছেন তিনি বিএনপির কেউ না। বিগত দিনে তিনি যুবলীগ নেতার দেহরক্ষী
হিসেবে কাজ করতেন। এখন বিএনপিতে সুকৌশলে অনুপ্রবেশ করে আমাকে এবং দলকে প্রশ্নবিদ্ধ
করে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। বৈধ কাগজপত্র দিয়ে স্ট্যান্ড পরিচালনা
করছি।’
বাউফল থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, ‘দুই পক্ষের
মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে। এক পক্ষের
লিখিত অভিযোগ পেয়েছি,
তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’