বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২২ ১১:৪৫ এএম
আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২২ ১২:৫৫ পিএম
ঢাকার শাহবাগ থানায় আটক বগুড়ার কাহালু থানার নেতা-কর্মী। ছবি : বিএনপি দলীয় সংদস্য মোশারফ হোসেনের সৌজন্য।
বগুড়ার কাহালুতে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাংচুর মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ফেরার পথে বিএনপির ৩০ নেতাকর্মীকে ঢাকার মৎস ভবনের কাছ থেকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদেরকে শাহবাগ থানায় রাখা হয়েছে।
দলীয় নেতা-কর্মীদের এভাবে গ্রেপ্তারের খবরটি বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবিসহ শেয়ার করেছেন।
ঢাকায় অবস্থানরত সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টায় প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ হয়।
তিনি জানান, আটক নেতাকর্মীদের কী মামলা দেওয়া হয়েছে তা এখনও তিনি জানেন না। তিনি শাহবাগ থানার ওসির বিরুদ্ধে অসৌজন্য আচরণেরও অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমি একজন সংসদ সদস্য হওয়ার পরেও আমার স্টিকারযুক্ত গাড়ি থানায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি ওসির সঙ্গে সাক্ষাতের আগে আমাকে বসতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।’
সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন জানান, তার নির্বাচনী এলাকা কাহালু উপজেলার পাইকাড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাংচুর এবং ককটেল বিস্ফোরণের মিথ্যা অভিযোগে গত ২০ নভেম্বর স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ৫০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই একই দিন মিথ্যা অভিযোগে পাশের নন্দীগ্রাম থানায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ২০ নেতার নাম উল্লেখসহ ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
তিনি বলেন, ওই দুটি মামলায় আগাম জামিনের উচ্চ আদালতে আবেদন করা হলে শুনানী শেষে বিচারক কাহালুর ৪৮ জন এবং নন্দীগ্রামের ১৮ জনের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন পাওয়ার পর বুধবার কাহালু ৩০ জন নেতা-কর্মী বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য হাইকোর্ট থেকে বেড়িয়ে মৎস্য ভবনের সামনে গাবতলীমুখী একটি লোকাল বাসে চড়েন। কিন্তু বাসটি কিছুদুর যাওয়ার পরেই পুলিশ সেটি থামায়। এরপর কাহালু পৌর বিএনপির সভাপতি আনিছার রহমান আনিছ এবং উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাকিব বিনতে ইমতিয়ার শাওনকে বাস থেকে নামিয়ে আনে। পরে পুরো বাসটিকেই পুলিশ শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়।
সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি সন্ধ্যার দিকে থানায় যাই। কিন্তু পুলিশ আমার সংসদ সদস্য স্টিকারযুক্ত গাড়িটি প্রবেশ করতে দেয়নি। পরে আমি হেঁটে থানার ভেতরে গিয়ে ওসিকে খুঁজি। কিন্তু কোনো পুলিশ সদস্য আমার সঙ্গে ন্যুনতম সৌজন্যতা দেখায়নি। উল্টো ওসির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আমাকে ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।’
‘পরে ওসি নূর মোহাম্মদ এলে আমি ৩০ নেতাকর্মীকে আটকের কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। পরে আমাদের অপর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা শাহবাগ থানায় এসে তিনিও আটকের কারণ জানতে চান। কিন্তু পুলিশ যথাযথ কোন জবাব দেয়নি। পরে রাত ১০ পর্যন্ত থাকার পর আমরা থানা থেকে বেড়িয়ে আসি।’