রূপগঞ্জ (নারায়নগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ ১৬:১৮ পিএম
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ ১৬:২৪ পিএম
সাবেক সেনাপ্রধান কে এম সফিউল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সেনাপ্রধান, রূপগঞ্জের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহ মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ৯টার দিকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) এর এইচডিইউ-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী জিয়াউর রহমান মনি।
জিয়াউর রহমান মনি বলেন, 'স্যার দীর্ঘদিন ধরে অনেকগুলো রোগে ভুগছিলেন। তিনি ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, থাইরয়েডে জটিলতা, ফ্যাটি লিভার, ডিমেনশিয়াসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। গত ২ জানুয়ারি অসুস্থ্য অবস্থায় তাকে সিএমএইচ এ ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন সময় আইসিইউ, ওয়ার্ড তারপর এইডিওতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আজ পৌনে ৯টার দিকে মারা যান।
আজ দুপুর ১ টার দিকে কে এম সফিউল্লাহর রূপগঞ্জ থানার নিজ বাড়ির পাশে কাজী আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ওনার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মেজর জেনারেল কে, এম, সফিউল্লাহ (বীর উত্তম) সেপ্টেম্বর ১৯৩৫ সালে তদানীন্তন ঢাকা জেলার (বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলা) রূপগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৩ সনে পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৫৫ সনে পাকিস্তান মিলিটারী একাডেমি থেকে গ্র্যাজুয়েশন করে সেকেন্ড লেফটেনেন্ট পদে নিযুক্ত হন। সেনা বাহিনীতে কমিশন প্রাপ্তির পর ১৯৭০ সন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে, স্টাফে এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন। তিনি ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ কোয়েটা থেকে পিএসসি লাভ করেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমর্থন করে জেনারেল সফিউল্লাহ ২৮ মার্চ ১৯৭১ এ দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সেকেন্ড ইন কমান্ড থাকাকালে ঐ ব্যাটালিয়ন নিয়ে বিদ্রোহ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে মেজর সফিউল্লাহ তিনি তাঁর নামের প্রথম অক্ষর ‘এস' দিয়ে এস ফোর্স' নামে একটি নিয়মিত ব্রিগেড গঠন করেন এবং সে ব্রিগেডের কমান্ডার নিযুক্ত হন। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এর বিজয় দিবসে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণকালে তিনি তার এই ব্রিগেড নিয়ে ঢাকায় উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান ও সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর উত্তম পদকে ভূষিত করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার এপ্রিল ১৯৭২ সনে তাকে প্রথম সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ করেন। এই পদে তিনি আগষ্ট ১৯৭৫ পর্যন্ত নিয়োজিত ছিলেন। জেনারেল সফিউল্লাহ ১৯৭৫-এর পর থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত ১৬ বছর বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৯২ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে পরবর্তীতে ওনাকে আর নমিনেশন দেয়নি আওয়ামীলীগ। জেনারেল সফিউল্লাহ এক ছেলে এবং তিন মেয়ের পিতা।