× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

‘গণঅভ্যুত্থানের ফলে মায়ের কোলে ফিরে এসেছি’

ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ২৩:০২ পিএম

সদ্য জামিন পাওয়া সাবেক বিডিআর সদস্য ঠাকুরগাঁওয়ের মোতাহার হোসেন মানিক। প্রবা ফটো

সদ্য জামিন পাওয়া সাবেক বিডিআর সদস্য ঠাকুরগাঁওয়ের মোতাহার হোসেন মানিক। প্রবা ফটো

গণঅভ্যুত্থানের ফলে আমি আমার মায়ের কোলে ফিরে এসেছি। জেলের ভিতর ছিলাম বলে যে আমরা অভ্যুত্থান করিনি তা না। ফ্যাসিজম থেকে মুক্তির জন্য আমরা জেলের ভিতরে নামাজ পড়ে সব সময় দোয়া করতাম। আমি গণঅভ্যুত্থানে সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আল্লাহ তাদেরকে জান্নাত দান করুক।

আবেগজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন ১৬ বছর পর জেল থেকে ফিরে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলায় সদ্য জামিন পাওয়া সাবেক বিডিআর সদস্য ঠাকুরগাঁওয়ের মোতাহার হোসেন মানিক।

চাকরির ৬ মাস বয়সে পিলখানা হত্যাকাণ্ড মামলায় ১৬ বছর জেল খেটে শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে ফেরেন বিডিআরের এই জাওয়ান।

তিনি সদর উপজেলার কচুবাড়ী জোতপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেন মেম্বারের ছেলে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলায় ১৩৬ জন সাবেক বিডিআর জাওয়ান গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাদের কারামুক্তিতে স্বজনদের চোখে আনন্দের অশ্রু ঝরছে। আনন্দ বাঁধ ভেঙেছে তাদের মনে।

শুক্রবার দুপুরে নিজ বাড়িতে ফিরলে একনজরে তাকে দেখতে ভীড় জমান আত্নীয় স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধু বান্ধবরা। এ সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তার স্বজনরা।

প্রতিবেশী সুজন ইসলাম বলেন, আমরা মনে করছি মানিক ভাইকে আর দেখতে পারবো না। তবে তা আর হলো না। গতকাল তিনি কারাবাস শেষে বাড়ি ফিরেছেন। এতে আমরা অনেক আনন্দিত।

মোতাহার হোসেন মানিকের স্ত্রী বেবী আক্তার বলেন, বিয়ের ১৪ দিনের মাথায় স্বামী কারাগারে চলে যান। তখন থেকে স্বামীর অপেক্ষায় ছিলাম। দিন গড়িয়ে বছর হয়েছে, বছর গড়িয়ে দশক হয়েছে, তবু তার মুক্তি মেলেনি। ১৬ বছর পর সেই দিন এলো। আজ আমি অনেক খুশি। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমাদের দাবি এই মামলা যেন বাতিল করা হয়।

মোতাহারের মাতা মুক্তা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বুকের ধন ফিরে পেয়েছি। আর যেন কোনো মাকে এভাবে কষ্ট ভোগ করতে না হয়। ছেলের শোকে তার বাবাও মারা গেছেন।

মুক্তি পাওয়ার পর মোতাহার হোসেন বলেন, সম্পূর্ণ বিনা বিচারে আমি ১৬ বছর কারাগারে ছিলাম। যদি সঠিক বিচার হতো তাহলে আমার কারাভোগ করতে হতো না। অনেক বছর পর মায়ের কোলে ফিরা। এটা অন্যরকম একটা অনুভূতি। এটা বলে বুঝানো যাবে না। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। মাত্র ৬ মাস চাকরির বয়সে বিনা অপরাধে ১৬ বছর জেলখানায় কেটে গেছে। কী থেকে কী হয়েছে এটা সকলে জানে। আমাদের অনেক অসহায় ভাই এখনও ভিতরে আছে। তাদের কোন অপরাধ নেই। তাদেরকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এই সরকারের উচিত তাদের ছেড়ে দেওয়া।

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ১০ তারিখ তার এই মামলার হাজিরা তারিখ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এখনও ১০ তারিখের শঙ্কায় আছি। কারণ ১০ তারিখে আবার কোর্টে যেতে হবে। এভাবে আরও কতদিন কোর্টে দৌঁড়াদৌঁড়ি করতে হবে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। পরে আবার কি হবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমাদের প্রহসনের উপরে এই মামলা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইচ্ছা করলে কিন্তু এই মামলা বর্তমান সরকার বাতিল করে দিতে পারেন। মামলা বহাল রাখলে দূরদূরান্ত থেকে যাতায়াত করতে আমাদের জন্য আরও কষ্টকর হবে। পরে যদি আবার এই মামলায় কোন কিছু হয়। তাই সরকারের উচিত মামলাটি নিষ্পত্তি করে দেওয়া বলে মনে করছেন সাবেক এই বিডিআর সদস্য।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা