নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ২২:৪১ পিএম
নিহত মো. সহেল রানা।
দাঁতে ব্যথা নিয়ে সৌদির দাম্মাম শহরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মো. সহেল রানা (২৯)। টানা ২৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হেরে গেলেন। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় সহেল রানা মারা যান। এর আগে গত ১ জানুয়ারি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান সহকর্মীরা।
সহেল রানা নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের চর পানাউল্লাহ গ্রামের হোসেন হাজী বাড়ির মো. ইউসুফের ছেলে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় সহেল রানার মা-বাবা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ২০১৭ সালে তিনি সৌদি আরবে যান। চার বোন আর এক ভাইয়ের মধ্যে সহেল বাবা মায়ের দ্বিতীয় সন্তান। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
সহেল রানার নিকট আত্মীয় সৌদি প্রবাসী মো. মিরাজ বলেন, গাড়ি চালানো শেষে হঠাৎ সহেল রানার দাঁতে ব্যথা ওঠে। আগেই সে প্রায় দাঁতের ব্যথা নিয়ে কষ্ট পেত। হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে ডাক্তার বলেন, তার শারীরিক অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।
সবশেষে তার ফুসফুস খারাপ হয়ে যায়। শনিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অল্প বয়সে পরিবারের মায়া ত্যাগ করে প্রবাসে এসেছিলেন। এখন দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নিলেন। এটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে।
সহেল রানার প্রতিবেশী আব্দুল করিম বলেন, তার ব্যবহার অনেক ভালো ছিল। দেখা হলেই হাসিমুখে কথা বলতো সে। দেশে এলে তার দাঁতে ব্যথা উঠত। ব্যথার ওষুধ খেলে কষ্ট দূর হতো। সেই দাঁতের ব্যথা সারা শরীরে সংক্রামিত হয়ে মারা গেল। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চরজব্বর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু কাউছার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উপার্জনক্ষম একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে সহেল রানার পরিবার শোকে কাতর। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ দূতাবাসের মাধ্যমে দ্রুত দেশে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে তার তার পরিবার।