রাঙামাটি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ২২:৩৬ পিএম
পার্বত্য অঞ্চলের ১৩ ভাষার ১৪ আদিবাসী জুম্ম জাতি নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লারমা।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জুম্ম জনগণের সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকে সমাজের ভূমিকা প্রসঙ্গে সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের নিউমার্কেট এলাকায় স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা আশিকা হলরুমে পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সন্তু লারমা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে একটা নিরাপত্তাহীন, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে জুম্ম জনগণ বেঁচে আছে। নানাভাবে তাদের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করে চলেছে। বাংলাদেশের বহু ভাষাভাষী আদিবাসী জাতি আছে, তাদের সেই অস্তিত্বকে অবাঞ্ছিত করার উদ্দেশ্যে পাঠ্যবই থেকে আদিবাসী শব্দ-সংবলিত গ্রাফিতি ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশকে বহু জাতি, বহু সংস্কৃতির দেশ বলা হয়ে থাকে। সেই বাংলাদেশে শুধু বাঙালি জাতি বাস করে না; এখানে আরও বহু ভাষাভাষী কমপক্ষে ৫১ জাতিগোষ্ঠী বসবাস করে। আজকে সেই জাতিকে অস্বীকার করা মানে বাংলাদেশকে এক জাতি, এক রাষ্ট্র, এক ধর্মের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কেএস, মং মারমা, আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বান্দরবান শাখার প্রতিনিধি অংচ মং মারমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাংগঠনিক সম্পাদক থোয়াঅং মারমা, আদিবাসী ফোরামের ছাত্র ও যু্ব বিষয়ক সম্পাদক লেলুং খুমি, জেলা শাখার প্রতিনিধি ও সদস্য নমিতা চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায় থেকে অ্যাডভোকেট দীননাথ তঞ্চঙ্গ্যা, গুর্খা সম্প্রদায় থেকে মনোজ বাহাদুর গুর্খা, সাঁওতাল সম্প্রদায় থেকে মনু মুর্মু সাঁওতাল, অহমিয়া সম্প্রদায় থেকে অনুপ কুমার আসামসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, নিজেদের অতিত্ব রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে ভূমি কমিশন গঠনসহ অন্য বিষয়গুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের বৈষম্যের শিকার হতে হবে এবং হচ্ছি। সরকারে যারাই আসে, আদিবাসীদের ক্ষেত্রে সব সরকার একই মনোভাব নিয়ে দমিয়ে রাখার জন্য, আমাদের অস্তিত্ব বিলীন করে দেওয়ার পাঁয়তারা করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, পাঠ্যবই থেকে গ্রাফিতি মুছে ফেলার জন্য যখন আদিবাসী শিক্ষার্থীরা ঢাকায় প্রতিবাদ করে, তখন তাদের ওপর কেন হামলা করা হয়। আর সেই হামলাকারী সংগঠন স্টুডেন্ট ফর সভরেন্টি উল্টে যারা আদিবাসী দাবি করবে, তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছে। তারা যা-ই করুক না কেন, আমরা আমাদের পরিচয়ে এক জায়গায় অনড় থাকব। আমরা আদিবাসী অস্তিত্ব রক্ষায় লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমাদের পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে, সে লক্ষ্যে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প পথ নেই।