নীলফামারী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১৯:৫৯ পিএম
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:২৪ পিএম
নীলফামারীর জলঢাকায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে অনুদান ও স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করা হচ্ছে সেতু। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) পাঁচ গ্রামের মানুষের উদ্যোগে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। উপজেলার শোলমারী ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড এবং কমারী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ওপর দিয়ে বহমান বুড়ি তিস্তা নদীর আজিজার চেয়ারম্যানের ঘাটে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
৩৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও আট ফুট প্রস্থের সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা, যা সম্পূর্ণ এলাকাবাসীর দেওয়া অনুদান। এতে গ্রামগুলোর ১০ হাজারের বেশি মানুষের যাতায়াতের কষ্ট দূর হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জলঢাকা শোলমারী ইউনিয়নের এবং কমারী ইউনিয়নের ওই এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ বর্ষাকালে কলার ভেলা ও নৌকায় যাতায়াত করলেও শুকনো মৌসুমে বুড়ি তিস্তা নদীর ওই এলাকায় কোনো সেতু নেই। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে এলাকাবাসী। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও হাসপাতালে যাতায়াতে খুব অসুবিধা হয়। এ নিয়ে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিয়েও একটি সেতু নির্মাণ করাতে পারেনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এলাকাবাসী, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের আংশিক অর্থায়নে গ্রামের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি সেতু নির্মাণের চেষ্টা শুরু করেন শোলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুজ্জামান।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান নূরুজ্জামান বলেন, চর এলাকার প্রতিটি পরিবার তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী দুই হাজার থেকে শুরু কর ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বেচ্ছায় দান করেছেন। সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তারা এলাকাবাসীর এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
জলঢাকা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রমজান আলী বলেন, এলাকার মেম্বার, চেয়ারম্যান এবং জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশা দেন সেতু নির্মাণের। কিন্তু বছরের পর বছর চলে গেলেও এখানে কোনো সেতু হচ্ছে না এজন্য এলাকাবাসী নিজেদের চেষ্টায় এবার কাজ শুরু করেছে।
আরেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ বলেন, সেতুটি হলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ১০ হাজার মানুষের কষ্ট দূর হবে।
এ ব্যাপারে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির ইমরুল মুজাক্কিন এলাকাবাসীর এ কাজকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকল্প নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।