শরীফ স্বাধীন, মাগুরা
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১৭:৫৯ পিএম
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১৮:১০ পিএম
গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে দেশের সর্বত্র পলিথিন বিক্রেতা ও ব্যবহারকারীদের আইনের আওতায় আনতে সরকার কঠোর বার্তা দিলেও মাগুরায় এর প্রতিফলন দেখা যায়নি। রোধ করা যাচ্ছে না নিষিদ্ধ পলিথিন। বরং পরিস্থিতি দেখলে বোঝার উপায় নেই, পলিথিন নিষিদ্ধ। দুই মাস অতিবাহিত হলেও ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তর নীরব ভূমিকায়। শুধু সীমিত পরিসরে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে দায় সারছে তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও বাজারে দৃশ্যমান কোনো অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়নি। কালেভদ্রে পলিথিন বিক্রির দায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কিছু টাকা জরিমানা করলেও কারাদণ্ড হয়নি কোনো বিক্রেতার। প্রশাসনের এমন ঢিলেঢালা মনোভাবের কারণে নিষিদ্ধ পলিথিনের বিস্তার ঘটছে। পরিবেশকর্মীরা বলছেন, ক্ষতিকর পলিথিনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হুমকিতে পড়বে প্রাণ-প্রকৃতিসহ জনস্বাস্থ্য।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ১ মার্চ বাংলাদেশ সরকার পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সর্বশেষ গত বছরের ১ অক্টোবর এবং ১ নভেম্বর থেকে সরকার কঠোর বার্তা দেয় পলিথিন ব্যাগ বিক্রেতা ও ব্যবহারকারীদের ওপর। এ ছাড়া আইন অমান্যকারীর জন্য রয়েছে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান। বাজারজাতকারীকে ছয় মাসের জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধানও রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোগ্যপণ্যের কাঁচাবাজার, নতুন বাজার, পুরাতন বাজার এবং ভায়না কাঁচাবাজারে পলিথিনের বিকল্প কোনো ব্যাগ ক্রেতাদের হাতে দেখা যায়নি। মুদি দোকান থেকে শুরু করে মাছ-মাংস-সবজি-ডিম-ফল-মিষ্টি যাই ক্রয় করা হোক, সব পণ্যই পলিথিনে। তবে সবজি বাজারে পলিথিনের ব্যবহার বেশি। আবার পলিথিন ছাড়াও রয়েছে মোড়কজাত পণ্য। একজন ক্রেতার কেনাকাটা শেষে দেখা যায়, হাতে রয়েছে পণ্যভর্তি অন্তত ছয়টি পলিথিন ব্যাগ। এর মধ্যে চারটি ব্যাগে সবজি এবং দুটি ব্যাগে আটা, লবণ আর নুডলস।
অন্যদিকে গত নভেম্বর মাসে জেলা প্রশাসক অহিদুল ইসলাম শহরের তিনটি বাজারে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারের ওপর সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়েছেন। বাজার করতে আসা সাধারণ মানুষ ও বিক্রেতাদের মাঝে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কাপড়ের ব্যাগ হাতে হাতে বিলি করেছিলেন তিনি।
কলেজ শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, উপায় কি বাজারের ব্যাগ সবসময় বয়ে নিয়ে বেড়ানো যায় না। পলিথিন ব্যাগে পণ্য কিনলাম বাড়ি গিয়ে ফেলে দিলাম। সুবিধা আছে কিন্তু পলিথিন ক্ষতিও করে। এটা বন্ধে বাজারে প্রশাসনের তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই।
মাগুরা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক অলক কুমার সাহা বলেন, পলিথিন বা প্লাস্টিকের সমগোত্রীয় মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন বিভিন্ন খাদ্যের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এটা এমনভাবে ছড়িয়েছে যে, মায়ের দুধেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আমি মনে করি, ক্ষতিকর পলিথিনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হুমকিতে পড়বে মানবস্বাস্থ্য।
শহরের পুরাতন বাজারের পলিথিন ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম বলেন, জানি পলিথিন বিক্রি নিষিদ্ধ। কিন্তু গ্রাহকের চাহিদা রয়েছে। সরকার পরিবেশবান্ধব পলিথিনের ব্যবস্থা করলে ক্রেতা-বিক্রেতার জন্য ভালো হয়।
মাগুরা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শোয়াইব মোহাম্মদ শোয়েব জানান, মাগুরা জেলায় নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রির দায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত করে এখনও পর্যন্ত কাউকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি, তবে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জনবল সংকট থাকায় গত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে কোনো অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। নতুন বছরে কোনো ধরনের নিষিদ্ধ পলিথিন বাজারে বিক্রয় করতে দেওয়া হবে না।
জেলা প্রশাসক অহিদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারের ওপর সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়েছি। এটা আরও জোরদার করা হবে। নিষিদ্ধ পলিথিন উচ্ছেদে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।