লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১০:৩৮ এএম
চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর- নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে পিচ ঢালাইয়ের কথা থাকলেও কেবল ইটের সলিং করে কাজ শেষ করা হয়েছে। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরে আঞ্চলিক মহাসড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ। এতে ছোট-বড় নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এ সড়কের সংস্কারে নামে তামাশা করা হয়েছে। এসবই দৃশ্যমান। যেখানে পিচ ঢালাই করার কথা, সেখানে ইটের সলিং করা হয়েছে।
এ সড়কে বালু-ইটবাহী ট্রাক-পিকআপভ্যান ও ট্রাক্টর বেপরোয়াভাবে চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। এসব যান চলায় মহাসড়ক থেকে উত্থিত বালু পরিবেশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। ধুলাবালিতে বিপর্যস্ত জনজীবন। আশপাশের পরিবেশ বিনষ্ট। গাছপালা বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন সড়কে চলাচলকারী লাখো মানুষকে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
সম্প্রতি চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ৫টি জায়গায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ইটের সলিং দিয়ে সংস্কারকাজ করা হয়েছে। এতে চলাচলকারীদের অভিযোগÑ পিচ ঢালাইয়ের পরিবর্তে সলিং করে উন্নয়নের নামে সওজ তামাশা করেছে। সওজ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে সবশেষ ২০১৭ সালে কার্পেটিং করা হয়। যানবাহনের চাপ, বন্যা ও অতিবৃষ্টির ফলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ, মেকাডম উঠে খানাখন্দ ও ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।
পুরো সড়কে দেখা দিয়েছে ছোট-বড় অনেক গর্ত। গত বছর সড়কের সদর উপজেলার হাজিরপাড়া, মান্দারী, জকসিন, পুলিশ লাইনসসংলগ্ন, ইসলাম মার্কেট, বাসটার্মিনাল এলাকায় পিচ ঢালাই দিয়ে কার্পেটিং করা হয়। কিন্তু তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ওইসব স্থানে চলতি মাসের শুরুতে ইটের সলিং করা হয়। এই সলিংয়ের ওপর দেওয়া বালু ও ভারী যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ইট ভেঙে ধুলাবালিতে একাকার হয়ে পড়েছে। ধুলাবালিরোধে পানি ছিটানোর নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
সওজ সূত্রে আরও জানা যায়, বাসটার্মিনাল থেকে চন্দ্রগঞ্জ বাজার পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর অংশে ১৮ কিলোমিটার সড়কের চার লেনের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির টেন্ডারসহ অন্যান্য বিষয় প্রক্রিয়াধীন। সড়কটি চার লেনে ২৪ ফুট করে ৪৮ ফুট এবং মাঝখানে ডিভাইডার হবে। এ ছাড়া বাসটার্মিনাল থেকে চাঁদপুর রুটের রায়পুরে বর্ডার অংশে পিএমপি (প্রধান সড়ক) প্রকল্পের জন্যও প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে ৪৫০ কোটি টাকার মতো ব্যয় ধরা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ প্রকল্পের অনুমোদন হবেÑ তা সঠিকভাবে জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বাবু বলেন, ‘লক্ষ্মীপুরে প্রধান সড়কে যেসব মাটি ও বালুবাহী ট্রাক চলে, তা থেকে মাটি ও বালু ঝরে পড়ে। সড়কে পড়া মাটি ও বালুর উপদ্রবের শিকার স্থানীয়রা। সড়কের বেহাল দশার কারণে বাইকচালকরা প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ছে।’
পরিবেশ অধিদপ্তর লক্ষ্মীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হারুন-অর-রশিদ পাঠান রশিদ বলেন, ‘সড়কে বায়ুদূষণ ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সওজের দেখার কথা।’
১০০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) অরুপ পাল বলেন, ‘বায়ুদূষণে মানুষের শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা হয়। অ্যাজমা, চুলকানি, সর্দি, কাশিসহ নানা রোগ-বালাই দেখা দেয়। শিশুদের ক্ষেত্রেও ধুলাবালি একই সমস্যা সৃষ্টি করে। এসব সমস্যা নিয়ে প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিচ্ছে।’
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সড়কের খানাখন্দগুলোয় সিলকোড করলে বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। এতে ইটের সলিংয়ের মাধ্যমে সংস্কার করা হচ্ছে। ইট বসে গেলে দুর্ভোগ ছাড়াই যানবাহন চলতে পারবে।’ তবে তিনি ধুলাবালিরোধে পানি না ছিটানোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।