মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১০:২৯ এএম
মোরেলগঞ্জ সমাজসেবার জমি দখল করে দোকান নির্মাণ করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। প্রবা ফটো
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ সমাজসেবা অফিসের আওতাধীন গণমিলনায়তন কেন্দ্রের জমি দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। বছরের পর বছর এসব দোকানপাটের ভাড়া নিচ্ছেন দখলদাররা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জানে না তাদের দখলকৃত জমির খবর। জমিদাতা ও এলাকার সচেতন মানুষের দাবি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি সম্পদ রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের সমাজসেবা অধিদপ্তর নিজস্ব জমিতে ১৯৮৫-১৯৮৯ সালে নির্মিত হয় ইউনিয়ন গণমিলনায়তন কেন্দ্র ভবন। এ কেন্দ্রগুলোতে ইউনিয়ন পর্যায়ের সমাজসেবার সদস্যদের লোন কার্যক্রম প্রাথমিক পর্যায়ে দুই-চার বছর চালু ছিল। পরবর্তীতে এ প্রকল্প ঝিমিয়ে পড়ায় এসব কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। সরকারি অর্থব্যয়ে নির্মিত ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। জমি দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা দোকানপাট তুলে ভাড়া নিচ্ছেন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। আবার কোথাও কোথাও এসব ভবনের ইট পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে। ফলে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে পরিবার উন্নয়ন কেন্দ্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোগলাপাশা ইউনিয়নের বৌলপুর পরিবার উন্নয়ন কেন্দ্রটি ১৯৮৬ সালে ৯৬ শতক জমির ওপর নির্মাণ করা হয়। জমির এক অংশে পাকা ভবন, বাকি ফাঁকা ছিল। স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে সেখানে ১০টি দোকান তুলেছে। তারা বছরের পর বছর ভাড়া তুলছেন। মূল কেন্দ্র ভবনটিও একপর্যায়ে দখল করে নেয়। সেখানে শিকদার এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেটার মালিক সোহেল তালুকদার নামে একজন। গত দুই বছর ধরে সেখানে ওষুধের দোকান হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
দখলদাররা বলছেন, দোকানঘর তোলার সময় অফিসিয়াল বাধা নিষেধ ছিল না। তবে মাঝেমধ্যে সমাজ কল্যাণের মাঠ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা আসতেন। তাকে ৩ বছর সামান্য কিছু টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। গত পাঁচ বছর ধরে কাউকে টাকা দেওয়া হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্সের টাকা নিয়মিত পরিশোধ করেছেন তারা।
হোগলাপাশা ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বলেন, বৌলপুর বাজারের সমাজসেবার পরিবার উন্নয়ন কেন্দ্রটি দীঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ছিল। সেটাকে পাবলিক গণশৌচাগার বানিয়েছিল। পরিবেশ দূষণরোধে সংস্কার করে সাময়িকভাবে অফিস করেছিলাম। গত ৫ আগস্টের পর একটি মহল অফিসের মালামালসহ মূল ফটকে তালা মেরে আটকে রেখেছে।
জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে নিজস্ব জমিতে পরিবার উন্নয়ন কেন্দ্র ভবন রয়েছে। যা এখন অনেকটাই পরিত্যক্ত অবস্থায়। বৌলপুর পরিবার উন্নয়ন কেন্দ্রটির জমি দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।