লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ ১০:৩৮ এএম
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ ১০:৪৬ এএম
বিক্রির জন্য নিজের ক্ষেত থেকে রঙিন ফুলকপি তুলছেন কৃষক জামাল। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরমনসা এলাকায়। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরে বাণিজ্যিকভাবে রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে কৃষক মো. জামাল ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। তার আবাদকৃত ২০ শতাংশ জমিতে প্রায় দেড় লাখ টাকার কপি উৎপাদন হয়েছে। স্থানীয়দের মতে জামাল এবার রঙিন ফুলকপি চাষে বাজিমাত দেখিয়েছেন। তার দেখাদেখি অন্যরাও ঝুঁকছে রঙিন ফুলকপি চাষে।
সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের কৃষক জামাল সফলতার কথা জানিয়েছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে। তিনি জানান, বাড়ির পাশেই ২০ শতাংশ জমিতে সাদা, গোলাপি, হলুদ ফুলকপি ও লাল বাঁধাকপি (রেডকেবল) চাষ করেন। লাল বাঁধাকপি-রুবি কিং জাতের কপি উৎপাদনে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া পোকা থেকে রক্ষায় হলুদ ফাঁদ ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদ স্থাপন করা হয়। ফলন ভালো হওয়ায় তার মুখে হাসি ফুটেছে। রঙিন কপির দাম বেশি পাওয়ায় তিনি শতভাগ লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। জমি চাষসহ রঙিন কপি উৎপাদনে তার খরচ পড়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। আর উৎপাদিত কপি প্রায় দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

জামালের এই সফলতা দেখে উচ্চমান পুষ্টিসমৃদ্ধ রঙিন কপি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন এলাকার অন্য কৃষকরাও। জামাল বলেন, ‘এ অঞ্চলে আমি একাই রঙিন কপি চাষ করেছি। এখন অনেকেই এসে আমার কাছে রঙিন কপি চাষের বিষয়ে জানতে চাচ্ছে। বাজারে কপির ভালো চাহিদা রয়েছে। কারণ রঙের জন্য এ কপি বাজারে নিলেই সবার নজর কাড়ে। খেতেও বেশ সুস্বাদু। এ ছাড়া আমার ক্ষেতটি একটি এনজিও সংস্থা প্রদর্শনী হিসেবে ব্যবহার করছে।’
আক্তার উজ জামান নামে স্থানীয় একজন বলেন, ‘চরমনসা এলাকায় একজন কৃষক রঙিন কপি চাষ করছেন। এ কপিগুলো সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। এজন্য ক্ষেত থেকেই কপি কিনতে এসেছি। দাম বেশি হলেও বাজারে এ কপির চাহিদা রয়েছে।’
চরমনসা গ্রামের কৃষক মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘জামাল নতুন করে হলুদ, গোলাপি রঙের ফুলকপি ও লাল রঙের বাঁধাকপি চাষ করেছেন। ভালোই উৎপাদন হয়েছে। সাদা কপির দাম বাজারে এখন খুবই কম। কিন্তু রঙিন কপির দাম বেশি। প্রতি কেজি রঙিন ফুলকপি এখন ১৫০ টাকা ও রঙিন বাঁধাকপি ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগামীতে আমিও চাষ করব।’
জানতে চাইলে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান ইমাম বলেন, ‘পরীক্ষামূলকভাবে একজন কৃষক রঙিন কপি চাষ করেছেন। বাজারে এসব কপির ভালো দামও পাচ্ছেন। রঙিন কপি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। আমরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, যেন পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ রঙিন কপি উৎপাদনে আগ্রহী হয়। এতে কৃষক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।’