গাজীপুরে বেক্সিমকোর শ্রমিকদের বিক্ষোভ
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ২২:৩৯ পিএম
আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ২২:৪৭ পিএম
বেক্সিমকোর শ্রমিকরা কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেন। ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরে বন্ধ হওয়া ১৬টি কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শ্রমিকরা। এ সময় অর্ধশতাধিক যানবাহন ভাংচুর ও কারখানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে বুধবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে গাজীপুর নগরের সারাব এলাকায় চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে উত্তেজিত শ্রমিকেরা। এক পর্যায়ে তারা মহাসড়কে চলাচলরত অর্ধশতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করেন। একটি মালভর্তি ট্রাক ও তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে শ্রমিকদের হামলায় প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর স্থানীয় প্রতিনিধিসহ তিন সংবাদকর্মী আহত হন।
এদিকে অবরোধের কারণে সড়কের উভয় দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সড়কে চলাচলকারী যান চালক ও যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে রাত পৌনে আটটার দিকে সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনার মধ্যে নগরের তেঁতুইবাড়িতে ‘গ্রামীণ ফেব্রিকস’ নামের একটি কারখানার পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অগ্নিসংযোগ করে উত্তেজিত শ্রমিকদের একটি অংশ। রাত আটটায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছিল।
শিল্প পুলিশ ও কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্ধ হওয়া ১৬টি কারখানা চালুর দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার গণসমাবেশ করেন কারখানার শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শ্রীপুরের সান সিটির মাঠে আয়োজিত ওই সমাবেশ থেকে প্রতিষ্ঠানটির ৪২ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর জীবন-জীবিকার স্বার্থে বন্ধ কারখানাগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বিকালে আবার শ্রমিকেরা সানসিটি মাঠে সমাবেশ শুরু করেন। সমাবেশের একপর্যায়ে শ্রমিকদের একটি পক্ষ চক্রবর্তী এলাকায় চন্দ্রা-নবীনগর সড়ক অবরোধ করে গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকেরা সড়কে চলাচলরত অর্ধশতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে মালবোঝাই একটি ট্রাক ও তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
শ্রমিকদের অবরোধের খবর সংগ্রহ করতে গেলে দীপ্ত টিভির গাজীপুরের প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম, প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার কালিয়াকৈর প্রতিনিধি আবু সাইদ, বাংলা ভিশনের চিত্রসাংবাদিক আমির হোসেনকে বেধড়ক পেটানো হয়। তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন শ্রমিকেরা।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে রাত পৌনে আটটার দিকে চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের জনসংযোগ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম গণপরিবহন ভাঙচুর ও গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
শিল্প পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবু তালেব জানান, বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়ক অবরোধ করেছে। শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে পুলিশ।