× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মাঘের শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল

রংপুর অফিস ও লালমনিরহাট প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ১৯:০৭ পিএম

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ১৯:৪৪ পিএম

রংপুরে শীত থেকে বাঁচতে আগুন পোহাচ্ছেন স্থানীয় লোকজন। প্রবা ফটো

রংপুরে শীত থেকে বাঁচতে আগুন পোহাচ্ছেন স্থানীয় লোকজন। প্রবা ফটো

মাঘ মাসের হাড় কাঁপানো শীত। বইছে শীতের হিমেল হাওয়া। ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে পড়েছেন দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কয়েকটি জেলার মানুষ। রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলায় প্রচণ্ড শীতে কাবু হয়ে যাচ্ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। ঠান্ডা থেকে বাঁচতে খড়কুটো জ্বেলে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন এই অঞ্চলের মানুষজন।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে রংপুরে ১৩ ডিগ্রী, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১২ ডিগ্রী, ডিমলায় ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রী, কুড়িগ্রামের রাজারহাট ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রী, দিনাজপুরে ১২ দশমিক ৮, লালমনিরহাট ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রী এবং গাইবান্ধায় ১২ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।


শীতের কারণে দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। রংপুরের মিঠাপুকুরে ঘন কুয়াশার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চারটি যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। তবে প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনায় অন্তত ৫-৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বড়দরগা হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসাপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেয়া তথ্য মতে, শীতের কারণে বেড়েছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগের প্রকোপ। ফলে কয়েকদিনের তুলনায় হাসপাতালে শীতজনিত রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক মাহফুজার রহমান বাঁধন বলেন, নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু ও বয়ষ্ক।


নগরীর শালবন এলাকার জাকিয়া সুলতানা বলেন, ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যেতে পারছি না। এমনিতেই সর্দি-কাশি লেগে আছে, তারওপর আবার বড় কিছু না হয়ে যায়।

ওদিকে শীতের কারণে লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষক পরিবারদের। ধানের চারাসহ অন্যান্য ফসলের বীজ রোপন কাজ ব্যহত হচ্ছে। কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। আবার পাওয়া গেলে তারা বেশি মজুরী চাইছেন, ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রংপুর অঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া গত কয়েকদিনের তুলনায় তীব্র হয়েছে। শীতের তীব্রতা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে লালমনিরহাটেও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ থাকতে পারে।

এদিকে লালমনিরহাটেও প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ঘনকুয়াশায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। সূর্যের উত্তাপ না থাকায় শীতের অনুভূতি বেড়েছে। ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। দুর্ভোগ বেড়েছে শিশু ও বয়স্কদের।

মাঘের মাঝামাঝি শীত আরও বাড়তে পারে এমন শংঙ্কায় রয়েছেন শীতার্ত, অসহায় ও দরিদ্র মানুষজন। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষেরা পড়েছেন ব্যাপক দূর্ভোগে। এতে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম। বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ও নদীপাড়ের চরাঞ্চলের মানুষজন।

লালমনিরহাটে শৈত্যপ্রবাহ

এদিকে লালমনিরহাটের সদর উপজেলা পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিপ্লব রায় (৩২) বলেন, ‘আজকে কুয়াশার সাথে ঠান্ডা অনেকটাই বেশি পড়েছে। বর্তমানে দিনের বেলা তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও সন্ধ্যার পর থেকে তাপমাত্রা ব্যাপক হারে কমতে থাকে। ফলে দিন ও রাতে সমান শীত অনুভূত হয়।’

বড়বাড়ী ইউনিয়নের বুদারুর চরের কৃষক আমজাদ হোসেন (৫২) বলেন, ‘ঠান্ডায় সকাল সকাল কাজে যোগ দিতে কষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে দিনে ও রাতে একই পরিমাণ শীতের তীব্রতায় কষ্ট হচ্ছে । আজকে সকালে ঘুম থেকে উঠেছি কিন্তু ঠান্ডা কারণে কাজে যেতে পারছি না।


লালমনিরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তপন কুমার রায় বলেন, শীতের কারণে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি হচ্ছে হাসপাতালে। বিশেষ করে বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। বর্তমানে যেসব রোগীর অবস্থা খুব ক্রিটিক্যাল আমরা শুধু তাদেরকেই ভর্তি নিচ্ছি। এখানে যারা ভর্তি রয়েছেন তাদের বেশির ভাগই সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত । এছাড়াও অনেকের শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও খিচুনি রয়েছে।  

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দার বলেন, ‘ঠান্ডার কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি আমাদের চলমান রয়েছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা