চিলমারী-রৌমারী নৌরুট
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ১৩:০৭ পিএম
নাব্যতা সংকটের কারণ দেখিয়ে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর থেকে চিলমারী-রৌমারী নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। এর এক মাসেও স্বাভাবিক হয়নি ফেরি চলাচল। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা সংকট থাকায় প্রায় এক মাস ধরে চিলমারী-রৌমারী রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। রুটটিতে কবে নাগাদ ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, নাব্যতা সংকটের কারণ দেখিয়ে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর থেকে চিলমারী-রৌমারী নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে রুটটিতে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চিলমারী-রৌমারী ফেরি সার্ভিসটি প্রধানত জামালপুর, ময়মনসিংহ ও রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তরের জেলাগুলোর সহজ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সার্ভিসটি বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দৈনন্দিন কঠিন পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, নদীপথে চলাচলকারী এই ফেরি সার্ভিস যাত্রীদের জন্য যেমন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, তেমনি ব্যবসা বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু শুকনো মৌসুমে ফেরি চলাচলে ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা সংকট একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ ফেরি চ্যানেল সচল রাখার জন্য ইতঃপূর্বে ড্রেজিং কার্যক্রম চালালেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্থাটির ড্রেজিং করা পলি নদীতে ফেলার কারণে স্রোতের টানে তা ভাটি এলাকায় জমা হয়ে আবারও ডুবোচর সৃষ্টি করে।
চিলমারী ফেরিঘাট এলাকার ব্যবসায়ী আবু জিয়াদ আজাদ বিপ্লব বলেন, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ফেরিঘাট এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে। খলিল উদ্দিন নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, গত দুই মাস থেকে ফেরি বন্ধ থাকার কারণে এ পথে মালবোঝাই ট্রাকসহ যাত্রীরা সহজেই পারাপার হতে পারছে না।
চিলমারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাবু বলেন, লালমনিরহাট এর পাটগ্রাম থেকে পাথরবাহী ট্র্যাক চিলমারী ফেরি ঘাট দিয়ে রৌমারী হয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে থাকে। নদীতে নাব্যতা না থাকায় ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবার পরও প্রায় ১০-১২ দিন পাথরবাহী অর্ধশত ট্র্যাক চিলমারী বন্দরে অপেক্ষা করার পর অন্য পথে নির্দিষ্ট ঠিকানায় যেতে বাধ্য হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি ভোগান্তিতে পড়বে সাধারণ যাত্রীরাও।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসি মেরিন অফিসার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিআইডব্লিউটিএর প্রধান কার্যালয়ের একটি দল এসে অতিরিক্ত পলি জমার কারণে ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি প্রতিদিনই এক থেকে দেড় ফুট কমছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার পানি হ্রাসের পরিমাণ বেশি। ফলে নাব্যতা সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ফেরি চলাচলের জন্য ছয় থেকে সাত ফুট পানির গভীরতা প্রয়োজন হয়, সেখানে এই নৌ-চ্যানেলে পানির গভীরতা রয়েছে মাত্র চার থেকে পাঁচ ফুট। ফলে প্রায়ই ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে।