× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আমতলী পৌরসভা

২৬ বছরেও নির্মিত হয়নি বর্জ্য শোধনাগার

রাসেল মিয়া, আমতলী (বরগুনা)

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ১২:০৯ পিএম

১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বরগুনার আমতলী পৌরসভা। এর দীর্ঘদিন পরও বর্জ্য শোধনাগার নির্মিত না হওয়ায় শহরের বেশিরভাগ বর্জ্য ফেলা হয় পায়রা নদীতে। সম্প্রতি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নদীতীরে। প্রবা ফটো

১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বরগুনার আমতলী পৌরসভা। এর দীর্ঘদিন পরও বর্জ্য শোধনাগার নির্মিত না হওয়ায় শহরের বেশিরভাগ বর্জ্য ফেলা হয় পায়রা নদীতে। সম্প্রতি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নদীতীরে। প্রবা ফটো

প্রথম শ্রেণির তালিকায় আছে আমতলী পৌরসভা। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, নাগরিক সুবিধা যৎসামান্য। এ কারণে পৌরসভার নাগরিকদের আক্ষেপের শেষ নেই। প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় যে সুযোগ-সুবিধা থাকে, আমতলী পৌরসভায় তার ধারেকাছেও নেই। দিন দিন সুযোগ-সুবিধা আরও অধোগামীর দিকে। 

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পৌরসভায় বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করা হয়নি। সময়ের হিসাবে ২৬ বছর হতে চললেও এটি ছাড়াই চলছে নাগরিক সেবা। তবে বর্জ্য শোধনাগারের বিকল্প ভরসা হয়ে উঠেছে পায়রা নদী। প্রতিদিন এ পৌরসভায় গড়ে প্রায় ১৬ টন বর্জ্য তৈরি হয়। তার সব গিয়ে মিশছে পায়রা নদীতে। এতে পায়রা নদী ক্রমশ সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। বর্জ্যের চাপে পড়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইলিশ মাছ উৎপাদন কমে গেছে। কিন্তু পায়রা নদীর দুই পাড়ের মানুষ দুশ্চিন্তায় রয়েছে। তারা বলছেÑ দুর্গন্ধ ও দূষিত পানি নানা কাজে হাজার হাজার মানুষ ব্যবহার করছে। এ কারণে চর্মরোগ, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এলাকাবাসী।

১৯৯৮ সালে পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৫ সালে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। এর আয়তন প্রায় ৭.৭৫ বর্গকিলোমিটার। ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ পৌরসভায় বসবাস করে। পৌরবাসীর আক্ষেপÑ প্রথম শ্রেণির পৌরসভা অথচ বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা নেই। ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত জায়গা না থাকার জন্য তাদের মধ্যে অনেকেই সাবেক পৌর মেয়রকেই দায়ী করছে। তিনি সঠিকভাবে পদক্ষেপ নিলে বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করা সম্ভব হতো বলে তারা মনে করে। 

আমতলী উপজেলা নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী শাহাবুদ্দিন পাননা বলেন, ‘আমতলী পৌরসভায় প্রথম শ্রেণির নাগরিক সুবিধা সামান্যই। কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। এর প্রয়োজনীয়তাও পৌর কর্তৃপক্ষ কখনও উপলদ্ধি করেছে বলে মনে হয় না। বলা যায়, তারা উন্নত নাগরিক সেবা দিতে আগ্রহী নয়। তবে আমরা এর প্রয়োজনীয়তার কথা বারবার তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। কিন্ত তাতে কোনো কাজ হয়নি। আমাদের দাবি গ্রাহ্য করেনি। বড়ই দুঃখজনক ঘটনা। পৌর কর্তৃপক্ষের এই ব্যর্থতা নগরবাসী মনে রেখেছে।’

এই আইনজীবীসহ পৌরসভার সচেতন নাগরিকদের দাবি হলোÑ আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নির্মাণের মাধ্যমে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা রিসাইক্লিং করে সার উৎপাদন করতে হবে এবং এর মাধ্যমে বর্জ্যের ক্ষতিকর দিক থেকে পরিবেশের সুরক্ষা দেওয়ার কথা ভাবতে হবে। সেই সঙ্গে স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ অপরিহার্য। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ঈসা বলেন, ‘বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের মাধ্যমে নাগরিক সেবার পাশাপাশি পৌর কর্তৃপক্ষ ময়লা-আবর্জনাকে সম্পদে রূপান্তরিত করতে পারে। তাদের সংগৃহীত বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন করা সম্ভব।’ 

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মজিবুল হায়দার বলেন, ‘বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ 

এ বিষয়ে আমতলী পৌর প্রশাসক আশরাফুল আলম বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারি জায়গার খোঁজ করা হচ্ছে। যথেষ্ট টাকা না থাকায় সুবিধামতো বেসরকারি জায়গাও অধিগ্রহণ করা যাচ্ছে না।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা