× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ময়নামতির গোমতী

দুইপারে যোগাযোগে তিন খেয়াঘাটে সেতুর দাবি

জাকির হোসেন, বুড়িচং (কুমিল্লা)

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৫ ১১:৫৪ এএম

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৫ ১১:৫৯ এএম

একটি সেতুর অভাবে প্রতিদিন খেয়া নৌকায় পার হয় গ্রামবসী। সোমবার কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতির মীরপুর এলাকা। প্রবা ফটো

একটি সেতুর অভাবে প্রতিদিন খেয়া নৌকায় পার হয় গ্রামবসী। সোমবার কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতির মীরপুর এলাকা। প্রবা ফটো

কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী জনপদ ময়নামতি ইউনিয়নের গোমতীর পাড়ের মীরপুর, নানুয়ার বাজার, বাহেরচর (মিঘিলাপুর) এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয় খেয়া নৌকার। কখন পাড়ে ভিড়বে নৌকা কিংবা নৌকা থাকলেও মাঝিকে হাঁকডাক দিতে হয়Ñ ওই মাঝি তাড়াতাড়ি আসো। বছরের অন্যান্য সাধারণ দিনে-রাতে ডাকের সুর একরকম হলেও অঝোর বৃষ্টি, কুয়াশা কিংবা গভীর রাতে ঘরেফেরা মানুষকে পারাপারের খবর মোবাইল ফোনে আগাম জানিয়ে রাখতে হয় মাঝিকে। না হয় ফোন দিয়ে ডেকে এনে বাড়িঘরে ফিরতে হয় বাসিন্দাদের। তাদের দাবি, চার কিলোমিটারের মধ্যে থাকা এসব খেয়াঘাটের সুবিধাজনক স্থানে সেতু নির্মাণ করা হোক।

স্থানীয়দের অভিযোগÑ সড়ক, মহাসড়ক, ফ্লাইওভার, সেতুসহ দেশে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে বিস্তর। কিন্তু শতাব্দীপ্রাচীন খেয়াঘাটগুলো দিয়ে ডিঙি নৌকায় এপার-ওপার পার হতে হয়। জেলা পরিষদের অধীনে থাকা এসব ঘাট সংস্কার বা আধুনিকায়নে কর্তৃপক্ষের কোনো খেয়াল নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের পূর্বদিক দিয়ে বয়ে গেছে জেলার প্রধান নদী গোমতী। আর এই ইউনিয়নে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যেই তিনটি খেয়াঘাটের অবস্থান। সেগুলো হলোÑ মীরপুর, নানুয়ার বাজার ও মিথিলাপুর খেয়াঘাট।

ময়নামতি রানীর বাংলোর পূর্বদিকে প্রায় অর্ধকিলোমিটারেরও কম দূরত্বে মীরপুর খেয়াঘাটটির অবস্থান। ঘাটটিতে কোনো যাত্রীছাউনি নেই। মীরপুর অংশে ঘাট সংলগ্ন একটি মসজিদ ও একটি দোকান দুর্যোগকালীন আশ্রয় নেওয়ার উপায়। ওপারে একটি ছোট আকারের ছাপড়া রয়েছে। এই ঘাটের মাঝি আব্দুল কুদ্দুস। পঞ্চাশ পেরুনো এই মাঝি সকাল ৬টা থেকে নৌকায় যাত্রীপারাপারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে তার কর্মব্যস্ততা। নদীর দুইপারের মীরপুর, কাঁঠালিয়া, ভান্তি, কাহেতরা, বালিখাড়া, পূর্বহুরা, ফরিজপুর এলাকার লোকজন চলাচল করে এই ঘাট দিয়ে। পুরোনো একটি ডিঙি নৌকাই এই ঘাট দিয়ে পারাপারের একমাত্র অবলম্বন। কুদ্দুস জানান, আশপাশের বিভিন্ন স্থানে সরকার পাকা সেতু করে দিয়েছে। এতে করে যোগাযোগ অনেকটা সহজ হয়ে যাওয়ায় এখন আর আগের মতো মানুষের ভিড় নেই এই ঘাটে। তিনিও চান এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হোক। ইজারাদার নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, তিন পুরুষের এই পেশা তিনি টিকিয়ে রেখেছেন। প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক মানুষ এই ঘাট দিয়ে চলাচল করে। 

নানুয়ার বাজার খেয়াঘাটের দুই তীরে বুড়বুড়িয়া, বেড়াজাল, শিকারপুর, খাড়াতাইয়া, পূর্বহুরা, রামনগর, বাজেহুরা, বাগিলারাসহ পাশের দুই গ্রামের মানুষের সেতুবন্ধন এইখেয়া ঘাটের নৌকা। প্রতিদিন তিন শতাধিক মানুষ পারাপার হয় এই ঘাট দিয়ে। ঘাটের মাঝি ও ইজারাদার কামাল হোসেন জানান, এখানকার অনেক পরিবার বছরে এককালীন নৌকা ভাড়া দেয়। ঘাটটিতে কোনো যাত্রীছাউনি নেই। 

কেউ বলে মিথিলাপুর, কেউবা বলে বাহেরচর খেয়াঘাট। ময়নামতি ইউনিয়নের সর্বোত্তরে এই ঘাটটির অবস্থান। মাঝি আব্দুল মালেক জানান, প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে তিন শতাধিক লোক পারাপার হয়। ঘাটে নৌকায় নদী এপার-ওপার হতে মাত্র ৫ টাকা নেওয়া হয়। এই ঘাটের ইজারাদার আব্দুল জলিল জানান, মানুষ জরুরি প্রয়োজন না হলে কষ্ট করে নদী পারাপার হতে চায় না। 

জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী আলিফ মাহমুদ বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত। ওই এলাকায় দুটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা