সাতক্ষীরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:০৭ পিএম
আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:১৬ পিএম
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সার্টিফিকেট আদালত ও রাজস্ব আদালতের আইনজীবীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জন অব্যাহত রেখেছেন। সোমবার (২০ জানুয়ারি) ছিল আদালত বর্জনের তৃতীয় দিন। জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে আদালত বর্জন করায় বিচারপ্রার্থীরা বিপাকে পড়েছেন।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকালে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আইনজীবী শাহ আলমের সভাপতিত্বে জেলা আইনজীবী সমিতি জরুরি সভায় জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সার্টিফিকেট আদালত ও রাজস্ব আদালতে বন্ধ করে দেওয়া ব্লু পেপার ব্যবহার ফের চালু না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে আদালতে কোনো বিচার কাজ না চলায় বিপদে পড়েছেন বিচারপ্রার্থীরা।
আইনজীবী মোস্তফা জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মামলার আর্জিসহ বিভিন্ন আবেদন আইনজীবী সমিতির সরবরাহ করা ওই নীল কাগজে জমা দেওয়া হতো। এতদিন কোনো সমস্যা না হলেও আকস্মিকভাবে জেলা প্রশাসক নীল কাগজের ব্যবহার বন্ধ করে ডেমিতে দায়ের করতে বলেছেন। এখানে জেলা আইনজীবী সমিতির আয় জড়িত। যতদিন ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসবেন ততদিন পর্যন্ত জেলা আইনজীবী সমিতির সব আইনজীবী চার আদালতের মামলা বর্জন করবেন। তবে বিচারপ্রার্থীদের যাতে ক্ষতি না হয়, তা দেখা হবে।
ডেমি পেপারের পরিবর্তে ব্লু পেপারের সঙ্গে অতিরিক্ত কোর্ট ফি দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে সমিতির সভাপতি আইনজীবী শাহ আলম বলেন, ‘সরকার রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে না। এরপরও যদি প্রশাসন বদ্ধপরিকর থাকে, তাহলে বাংলাদেশের রাজস্ব আদালতে যত রাজস্ব আদায় হচ্ছে তার ১০ শতাংশ আইনজীবীদের দিতে হবে। অন্যথায় যতদিন পর্যন্ত ব্লু পেপার না চলবে, ততদিন পর্যন্ত ওই আদালত শুধু নয়, যদি অন্য আদালতে একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে সেসব আদালতও বর্জন করা হবে।’
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘সরকারিভাবে যে কার্টিজ পেপার দেওয়া হয়, তা আইনজীবীরা ব্যবহার করতে চান না। তারা চান নীল পেপার সরবরাহ করতে। কার্টিজ পেপার ব্যবহারের সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। তা ছাড়া বিজি প্রেস থেকে এটা আসে। কার্টিজ টেকসই ও মানসম্মত। সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম এই খাতকে নষ্ট করার সুযোগ নেই।’ রাষ্ট্রীয় আইন মেনে কার্টিজ পেপার ব্যবহার করা উচিত উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় আয় বন্ধ করার সুযোগ নেই। এর ব্যত্যয় করা মানে জনস্বার্থবিরোধী কাজ করা।’