কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৫ ১৭:১৬ পিএম
আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৫ ০৮:৫২ এএম
বাটপাড় জসীমকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে কক্সবাজারের রামু উপজেলা বিএনপিসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। প্রবা ফটো
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত বাটপাড় জসীম উদ্দিনের শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে কক্সবাজার। স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজলের নামে মিথ্যা কুৎসা রটানোর প্রতিবাদে সোমবার (২০ জানুয়ারি) দ্বিতীয় দিনের মতো বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বিএনপিসহ পেশাজীবী বিভিন্ন সংগঠন।
এসব কর্মসূচিতে জসীমকে একজন বিশ্বমানের প্রতারক ও বাটপাড় আখ্যা দিয়ে তাকে পর্যটন শিল্পের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবির পাশাপাশি কক্সবাজারে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি
বাটপাড় জসীমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দেন বিভিন্ন পেশাজীবী নেতারা।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিনের হাতে তুলে দেওয়া স্মারকলিপিতে জসীম উদ্দিন ছাড়াও ‘চট্টগ্রাম প্রতিদিন ডিজিটাল’ নামের অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টালের সম্পাদক ও রিপোর্টারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, জসীম একজন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও প্রতারক প্রকৃতির লোক। বিগত স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা সরকার ও সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগের সক্রিয় দোসর এবং দুর্নীতিবাজ সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ব্যক্তিগত ক্যাশিয়ার এই জসীম। একই সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং সমালোচিত বিভিন্ন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ চর হওয়ায় দেশের প্রচলিত আইন-কানুনকে মোটেও তোয়াক্কা করেন না এই প্রতারক-বাটপাড়। বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন অপরাধ, জাল-জালিয়াতি, অবৈধ জবরদখল ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এই জসীম।
জসীমের সহযোগিতায় অনিবন্ধিত ভুঁইফোড় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘চট্টগ্রাম প্রতিদিন ডিজিটাল’ গত ১৮ জানুয়ারি কক্সবাজার-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির মৎস্যজীবী-বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজলের বিরুদ্ধে মানহানিকর ভুয়া খবর প্রচার করে, যা মিথ্যা অপপ্রচার ছাড়া কিছু নয়।
প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে লেখা হয়েছে, জসীমের ভাই মাসুদ ও আত্মীয়স্বজন গত ২৪ ডিসেম্বর কক্সবাজারের হোটেল রামাদা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন ও ওই হোটেলের বিষয়ে বিভিন্ন মামলা থেকে জসীমকে জামিনে মুক্ত করার জন্য কক্সবাজার-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের সহযোগিতা চান। কাজলও মানবিক কারণে বিষয়টিতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেন। তিনি উভয় পক্ষ ও পক্ষদ্বয়ের প্রতিনিধি সমন্বয়ে বিষয়টির আপস-মীমাংসা করে দেন।
ওই আপস-মীমাংসার সুবাদে জসীম জেলহাজত থেকে মুক্তি পান। তবে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর জসীম আবারও প্রতারণা শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি লুৎফুর রহমান কাজলের নাম উল্লেখ করে মিথ্যা ও সাজানো গল্প উপস্থাপন করে সংবাদ প্রচার করান।
স্মারকলিপিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মাবুদ, ব্যবসায়ী ছৈয়দ নুর সওদাগর, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ, অ্যাডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. সরওয়ার রোমন, অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ নুর, অ্যাডভোকেট মনির উদ্দিন, হারুনুর রশিদ, নুরুল আমিন, অ্যাডভোকেট আরিফ, মোতাহের হোসেন, কানন বড়ুয়া বিশাল, মিজানুল আলম, ফারুক আজম প্রমুখ।
রামুতে বিএনপির বিক্ষোভ-মিছিল
বাটপাড় জসীম উদ্দিনের শাস্তির দাবিতে সোমবার সকালে বিক্ষোভ-মিছিল করেছেন কক্সবাজারের রামু উপজেলা বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ-মিছিলটি রামুর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌমুহনী চত্বরে সমাবেশ করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পসংশ্লিষ্ট একটি বিষয় নিয়ে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আর তা করতে গিয়ে তিনি প্রতারক জসীমের কুৎসার শিকার হয়েছেন। এই প্রতারক কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের জন্য বড় হুমকি। জসীমের বিরুদ্ধে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, স্বচ্ছ ইমেজের সৎ রাজনীতিবিদ ও কক্সবাজারে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা জননেতা লুৎফুর রহমান কাজলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও কুৎসা রটনা জনগণ মেনে নেবে না। জসীমকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে কক্সবাজার অচল করে দেওয়া হবে।
জসীম কক্সবাজারে এলে তা পর্যটন শিল্পের জন্য ক্ষতির কারণ হবে উল্লেখ করে বক্তারা তাকে কক্সবাজারে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন।
রামু উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোক্তার আহমদের সভাপতিত্বে সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব আবুল বশর বাবু।
সমাবেশে বক্তব্য দেনÑ জেলা যুবদলের সহসভাপতি জাবেদ ইকবাল, বিএনপি নেতা ফোরকান আহমদ, ফয়সাল কাদের, ফরিদুল আলম, ছৈয়দ আলম, কাজী এম আবদুল্লাহ আল মামুন, আবদুল আলিম, শাহনুর উদ্দিন বাবু, মঞ্জুর আলম, আবদুর রহিম, জয়নাল আবেদীন বাবু, রামু উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আনোয়ারুল হক সিকদার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনছারুল হক, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ছানা উল্লাহ সেলিম, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহাজান লুতু, সদস্য সচিব এরশাদ উল্লাহ প্রমুখ।
শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সেব)-এর প্রতিবাদ সভা
কেন্দ্রীয় বিএনপির মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলকে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ সভা করেছে শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সেব)। গত রবিবার রাতে কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে সেব কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সেব ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহেদ আলী বলেন, ‘চট্টগ্রাম প্রতিদিন ডিজিটাল নামে একটি নিউজ পোর্টাল শনিবার লুৎফুর রহমান কাজলকে নিয়ে মানহানিকর, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করেছে। তাতে অভিযোগ করা হয়েছে- লুৎফুর রহমান কাজল কক্সবাজার শহরের তারকামানের হোটেল রামাদা রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা পুরোপুরি মিথ্যা।’
তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের কলাতলীতে অবস্থিত হোটেল রামাদা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন সেবের সভাপতি লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে আপসে বিষয়টির নিষ্পত্তি করেন। এই আপস-মীমাংসাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য পতিত স্বৈরাচার সরকারের অন্যতম দোসর ও দুর্নীতিবাজ সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের অন্যতম সহযোগী জসীম উদ্দিন সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে মিথ্যা-বানোয়াট সংবাদ প্রচার করেছেন।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সেবের কোষাধ্যক্ষ আনিসুর রহমান, সিনিয়র সদস্য ভুলু চৌধুরী প্রমুখ।
কে এই জসীম
বাটপাড়ি আর প্রতারণার মাধ্যমে যে কয়েক ব্যক্তি সমাজের উচ্চপর্যায়ে জায়গা করে নিয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম চট্টগ্রামের চন্দনাইশের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী জসীম উদ্দিন আহমেদ। নাদুস-নুদুস চেহারার মানুষটির কথা বলার ভাবভঙ্গিমা দেখলে যে কেউ মনে করবে দুনিয়াতে এর মতো ভালো মানুষ আর হয় না। বাস্তবে এই চেহারা আর বাচনভঙ্গিকে পুঁজি করে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে নানা কায়দায় মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে চলেছেন তিনি।
সাবেক আইজিপি বেনজীরের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত এই প্রতারককে মানুষ এখন চেনে আন্তর্জাতিক মহাবাটপাড় হিসেবে। হোটেল কর্মচারীর অবস্থান থেকে উঠে আসা জসীম উদ্দিন প্রতারণা করে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্বর্ণ চোরাচালান, নারী পাচার, হুন্ডি ব্যবসা, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ, জঙ্গি অর্থায়ন, পদায়ন ও বদলি বাণিজ্য আর মাদক ইয়াবার ব্যবসা থেকে শুরু করে হেন কোনো অপকর্ম নেই যার সঙ্গে জসীমের সম্পৃক্ততার অভিযোগ মিলছে না। আর তিনি এসব অপকর্ম বিনা বাধায় করে গেছেন সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী এবং অপরাধ সাম্রাজ্যের আরেক সম্রাট সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের মাধ্যমে।
আলোচিত ব্যবসায়ী জসীম দুই সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও শহীদুল হকের ব্যবসায়িক পার্টনার। এ ছাড়া ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, হাছান মাহমুদ, বিতর্কিত ডিবি পুলিশ কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ এবং বিপ্লব কুমার সরকার ও বনজ কুমারসহ সাবেক সরকারের ক্ষমতাধরদের সঙ্গে ছিল তার ব্যাপক ঘনিষ্ঠতা। আর এদের সঙ্গে নিয়ে এবং তাদের ওপর ভর করেই আজ তার এই অবস্থান।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ও এই জসীম ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও হাছান মাহমুদের মাধ্যমে ছাত্রলীগের পেছনে মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয় করেন। ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের হাতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দেওয়ারও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।
সাবেকে আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ পুলিশ ও র্যাব প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আর সাবেক আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতাদের ম্যানেজ করতে নিজের সুন্দরী স্ত্রী তানজিনা সুলতানা জুহীকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করতেন শিল্পপতি ও জেসিকা গ্রুপের মালিক জসীম উদ্দিন।
জসীম তার কার্যসিদ্ধির জন্য যেখানে যেতেন সেখানেই সঙ্গী হিসেবে থাকতেন তার স্ত্রী তানজিনা সুলতানা জুহী। এই তানজিলা সুলতানাও তার স্বামীর মতোই একজন চিহ্নিত প্রতারক। স্বামীর সহচর হিসেবে অনেক মানুষের সঙ্গেই তিনি প্রতারণা করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জসীমের গোটা পরিবারের সদস্যরাই এলাকায় বাটপাড়ির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এজন্য চিহ্নিত মহলে তাদের পরিচিতি বাটপাড় পরিবারের সদস্য হিসেবে। জসীমের ভাই মাসুদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। কক্সবাজারের আলোচিত ইয়াবা কারবারি বদির সঙ্গেও ছিল তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে ইয়াবা কারবারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক বনে গেছেন জসীমের ভাই মাসুদ। সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের আশীর্বাদ থাকায় এত সব অপকর্ম করে বেড়ালেও মাসুদকে কখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেনি।