× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আড়াই মাস ধরে বিদ্যুৎহীন দেড় হাজার পরিবার

শিশির খাঁন, সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর)

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৫ ১৫:৫৫ পিএম

গত  বছরের ৪ নভেম্বর সদরপুরের নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর থেকে সেখানে বিদ্যুৎ নেই। শনিবার ওই ইউনিয়নের নন্দনালপুর গ্রামে। প্রবা ফটো

গত বছরের ৪ নভেম্বর সদরপুরের নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর থেকে সেখানে বিদ্যুৎ নেই। শনিবার ওই ইউনিয়নের নন্দনালপুর গ্রামে। প্রবা ফটো

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে আড়াই মাস ধরে বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে দেড় হাজার পরিবার। পদ্মা নদীর তলদেশে সাবমেরিন কেবলে ত্রুটির ফলে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পড়েছেন প্রচণ্ড ক্ষতির মুখে।

গত ৪ নভেম্বর রাত থেকে হঠৎ করে বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর থেকেই ওই পরিবারগুলো বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। আড়াই মাস চলে গেলেও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ গতকাল রবিবার পর্যন্ত কেবলের ত্রুটি ধরতে পারেনি। এ নিয়ে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা গ্রাহকরা হতাশ ও ক্ষুদ্ধ। গত ১০ নভেম্বর বিকালে ইউনিয়নের নন্দনালপুর গ্রামের বাসিন্দারা স্থানীয় চুঙ্গাকান্দি বাজার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। 

পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের সদরপুরের দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন নদীবেষ্টিত অর্থাৎ মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। এখানে ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়ন থেকে পদ্মার তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে দেড় হাজার পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। 

গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি এই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিদ্যুতের আলো পরিবারগুলোর ঘরে জ্বলে ওঠার ৯ মাসের মধ্যে ৪ নভেম্বর থেকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন। পরিবারগুলো জানে না কবে তারা বিদ্যুৎ পাবে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি রয়েছে উদাসীন। 

ইউনিয়নের মজিদ সরকার কান্দি গ্রামের বাসিন্দা মোশাররফ মোল্লা বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে। সন্ধ্যার পর এলাকায় অন্ধকার নেমে আসে। চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়ে।’

মজিদ সরকার কান্দি গ্রামের বাসিন্দা মিজান সরকার বলেন, ‘এই এলাকার মানুষের মূল পেশা মাছ ধরা, সবজি ও বাদাম চাষ এবং গবাদিপশু লালন-পালন করা। বিদ্যুৎ না থাকায় কাজের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। সংকটে পড়তে হয় গবাদিপশু লালন-পালন নিয়ে। সব মিলিয়ে বেশ সমস্যায় আমরা।’ 

নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নে বিদ্যুৎ নেই। আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের জন্য চেষ্টা করছেন।’

ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আব্দুর রাশিদ বলেন, ‘সাবমেরিন কেবল কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এখনও তা আমরা শনাক্ত করতে পারিনি। আমরা কয়েক দফা চেষ্টা করেও সাবমেরিন কেবলের কোথায় ত্রুটি তা ধরতে পারিনি। ডিটেক্টর দিয়ে ত্রুটির জায়গা শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তা ছাড়া নদীর তলদেশ দিয়ে যে বৈদ্যুতিক কেবল টেনে নেওয়া হয়েছে, তা পলি পড়ে অনেক নিচে চলে গেছে। কেবল ওঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব মিলিয়ে আমরা এক অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে পড়েছি। বিষয়টি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে কেবল উঠিয়ে ত্রুটি মেরামত করা হবে নাকি বিদ্যুৎবিহীন পরিবারগুলোকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হবে। আমরা কেবলের ত্রুটি বের করার পাশাপাশি বোর্ডের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছি।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা