রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:৩৯ পিএম
আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:৪০ পিএম
ছবি: প্রতীকী
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের পিটিয়ে দুটি মহিষ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
শনিবারের (১৮ জানুয়ারি) এ ঘটনায় রাতে বিজিবি রাজশাহীর-১ ব্যাটালিয়নের রাজাবাড়িতে অবস্থিত বিশেষ ক্যাম্পের সদস্য মো. শাহ আলম বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন- গোদাগাড়ী উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের মো. মুকুল ও তার ছেলে হাসান, বিয়ানাবোনা গ্রামের মো. আক্কাশ ও তার জামাতা মো. জীবন, মোল্লাপাড়া গ্রামের মো. বাবলু ও তার ছেলে মো. ডলার, একই গ্রামের নয়ন, বিজয়নগর গ্রামের হামিদ, মো. জনি ও তার ভাই মো. টনি, বিয়ানাবোনা গ্রামের জনি ও পবার গহমাবোনা গ্রামের সিজার।
আসামিদের মধ্যে জনি ও টনি দেওপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই টুনুর ছেলে। আক্কাস দেওপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি। বাবলু ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। নয়ন ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। আর পবা থেকে যাওয়া সিজার পেশায় ঘাটিয়াল।
এদের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের পর এলাকায় নানা চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বসহ গরু পাচার ও অবৈধ হুন্ডিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বিজিবি সদস্যরা জানতে পারেন যে নাজিরপুর গ্রামের গরু-মহিষের ব্যবসায়ী মুকুল ভারত থেকে চোরাই পথে দুটি মহিষ এনে বাড়ির পাশের জঙ্গলে লুকিয়ে রেখেছেন। বিজিবি সদস্যরা সেখানে অভিযানে গেলে মুকুল কৌশলে পালিয়ে যান।
বিজিবি সদস্যরা মহিষ দুটি জব্দ করে রাজাবাড়ী বিশেষ ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় রাজাবাড়ী এলাকায় বিএনপির উল্লিখিত নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালান এবং মহিষ দুটি ছিনিয়ে নেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে থানায় মামলা করা হয়।
গোদাগাড়ী থানার
ওসি রুহুল আমিন বলেন, ‘বিজিবি-র পক্ষ থেকে মামলা করা
হয়েছে। মামলায় সরকারি কাজে বাধাদানেরও অভিযোগ আনা হয়েছে। ছিনিয়ে নেয়া মহিষ দুটি উদ্ধার
ও আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করা হচ্ছে।’