খাদেমুল ইসলাম, মাদারগঞ্জ (জামালপুর)
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:৩৪ পিএম
আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ২২:৪৫ পিএম
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের মই দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া এলাকায় এই মই দৌড় খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এই খেলা টিকিয়ে রাখতে ও নতুন প্রজন্মকে চমকে দিতে তারতাপাড়া গ্রামবাসী এর আয়োজন করেছে। খেলা দেখতে হাজারো মানুষের ভিড় ছিল। এ নিয়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশের। প্রতিবছর শীতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ষাঁড়ের মই দৌড় প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। ষাঁড়মালিকরা স্বতঃর্স্ফূতভাবে এতে অংশ নেন।
এ খেলায় চারটি করে ষাঁড় একত্রে মইয়ের সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধা হয়। পরে মইয়ের ওপর দুই ব্যক্তি উঠে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে দৌড় শুরু করে। মই থেকে পড়ে গেলে বা সীমানার বাইরে চলে গেলে বাতিল বলে ধরে নেওয়া হয় দলটিকে। মজার এই খেলায় ঝুঁকি নিয়েও থাকতে হয় সতর্ক। দৌড় শুরু হলে উৎসুক জনতা চিৎকার ও হাততালি দিয়ে প্রিয় দলকে জোগায় উৎসাহ। যে দল গন্তব্যে সবচেয়ে কম সময়ে পৌঁছাতে পারে, সেই দলকইে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে গতকাল মই দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেনÑ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফায়েজুল ইসলাম লাঞ্জু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেনÑ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খালেদ মাসুদ তালুকদার সোহেল, উপজেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মোখলেস, বালিজুড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মুসা, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক লুৎফর রহমান, উপজেলা ওলামা দলের সদস্য হাবিবুল্লাহ শাহীন প্রমুখ।
ঐতিহ্যবাহী মই দৌড় প্রতিযোগিতায় ১৮টি দল অংশ নিয়েছে। খেলায় প্রথম হয়েছে তারতাপাড়া এলাকার বেলাল মেম্বারের দল। দ্বিতীয় হয়েছে একই এলাকার সুলতান মণ্ডলের দল, তৃতীয় হয়েছে হয়বর প্রামাণিকের দল, চতুর্থ হয়েছে সুখনগরী এলাকার আব্দুর রাজ্জাক মুসল্লীর দল ও পঞ্চম হয়েছে চর কয়ড়া এলাকার আব্দুল ছালাম মণ্ডলের দল।
খেলায় প্রথম পুরস্কার ছিল একটি রেফ্রিজারেটর, দ্বিতীয় পুরস্কারও রেফ্রিজারেটর, তৃতীয় পুরস্কার বাইসাইকেল, চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় বিশাল আকারের ডেকচি ও পঞ্চম পুরস্কার মাঝারি আকারের ডেকচি। খেলা দেখতে আসা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলমগীর কবির বলে, ‘মই দৌড় খেলা সম্পর্কে বাবা-দাদার কাছ থেকে শুধু গল্প শুনেছি। আগে কখনও দেখা হয়নি। জীবনের প্রথম এ খেলা দেখলাম। খেলা দেখে বেশ ভালো লেগেছে।’
তারতাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুর নবী জানান, এ খেলার দিনক্ষণ সম্পর্কে বেশ আগেই মাইকিং করে জানানো হয়েছিল। সময়মতো তিনি মাঠে চলে আসেন। তার মতো হাজারো মানুষ খেলা দেখার জন্য ভিড় করে। বড় বড় ষাঁড় খেলায় অংশ নিয়েছে। তিনি বলেনÑ খেলা দেখে মজা পেয়েছি। খেলার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘মই দৌড় প্রতিযোগিতা গ্রামবাংলার শত বছরের খেলা। এখন এ খেলা আগের মতো হয় না। গ্রামাঞ্চলের মানুষকে বিনোদন দেওয়ার জন্যই এ খেলার আয়োজন।’
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফায়েজুল ইসলাম লাঞ্জু বলেন, ‘যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে ও নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্যবাহী এ খেলা তুলে ধরতেই এমন আয়োজন।’