সরোয়ার জাহান সোহাগ, ডিমলা (নীলফামারী)
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ১৯:০০ পিএম
আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ১৯:০৫ পিএম
নীলফামারীর ডিমলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মোট ২১৭টি, এর মধ্যে ৫৩টি স্কুলই চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এতে পড়াশোনার মান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজেরও জটিলতা বাড়ছে। অনতিবিলম্বে এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি অভিভাবকসহ সুধীজনের।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫৩টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষকেরা। এ ছাড়া চলতি দায়িত্বে আছেন ৭৬ জন, সহকারী শিক্ষক শূন্য পদে ৭ জন, সহকারী শিক্ষক কর্মরত আছেন মোট ১ হাজার ১৬৩ জন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা সদরের কয়েকটি স্কুলের একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান, একজন সহকারী শিক্ষক যখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন, তখন অনেক সহকারী শিক্ষক মনস্তাত্ত্বিকভাবে তাকে মেনে নিতে পারেন না, ফলে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষা কার্যক্রমে অনেক ক্ষতি হয়। এভাবেই দিন দিন বিদ্যালয়গুলোতে কমছে শিক্ষার গুণগত মান। এতে শিক্ষার্থীরা অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
ছাতনাই বালাপাড়া টাউরিদহ সপ্রাবির তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ইসমাইল হোসেন বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন সময় দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে অন্যান্য সহকারী শিক্ষকও তার নির্দেশনা সঠিকভাবে মানেন না। আমরা চাই দ্রুতসময়ের মধ্যে এই স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হোক।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, ৫৩টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে। যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, তাদের একটি তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কুমারেশ চন্দ্র গাছি বলেন, নানা জটিলতায় পদোন্নতি কার্যক্রম দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকায় সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। বেশ কিছু সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ অথবা পদোন্নতি হলেই বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে। তবে এটা সময়সাপেক্ষ।