খুলনা অফিস
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ১৮:২২ পিএম
খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি। প্রবা ফটো
খুলনা নভোথিয়েটার নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি, নগরীর জিয়া হলের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন এবং আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ূন কবীর বালু মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
কর্মসূচির মধ্যে আগামী বুধবার (২২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধান উপদেষ্টা বরাবর এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বরাবর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান, শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় খালিশপুর পিপলস চত্তরে মানববন্ধন এবং শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে খুলনার সকল নাগরিক সংগঠন, পেশাজীবী, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময়ের ঘোষনা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ-জামান।
লিখিত বক্তব্যে উন্নয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০১২ সালে খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল ও রংপুরসহ ৮টি বিভাগীয় শহরে নতুন প্রজন্মের কাছে বিজ্ঞানকে সহজভাবে উপস্থাপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় আগ্রহী করা, বিজ্ঞান সম্পর্কিত ধারণা দেওয়ার জন্য একটি করে নভোথিয়েটার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল ও রংপুরে নভোথিয়েটারের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু ২০১২ সাল থেকে খুলনা নভোথিয়েটারের জন্য জমি খুঁজতেই সময় লেগেছে প্রায় ১০ বছর।
তারা বলেন, ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি খুলনায় নভোথিয়েটার স্থাপনে স্থান নির্ধারণসংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে একনেকে অনুমোদন পায় এই প্রকল্পটি। নগরীর সিএন্ডবি কলোনির ১০ একর জমিতে নভোথিয়েটার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৫৫৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। গত ৩০ এপ্রিল বিনামূল্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের জায়গা পেয়েছে নভোথিয়েটার কর্তৃপক্ষ। আর গত ১৯ ডিসেম্বর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের টেন্ডারও আহ্বান করা হয়েছিল। এ ছাড়া প্রকল্পের জন্য এ পর্যন্ত প্রায় পৌনে এক কোটি টাকার মতো খরচ হয়েছে।
তারা আরও বলেন, এ প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় কিছু মানুষ খেলার মাঠের বিষয় তুলে আন্দোলন করেন। পরে ১২ ডিসেম্বর খুলনার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পের নাম ও স্থান পরিবর্তনের দাবি ওঠে। এ সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা খেলার মাঠ উঁচু করে আগেই নির্মাণ করে তারপর নভোথিয়েটার প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তারপরও গত ৩০ ডিসেম্বর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোকাব্বির হোসেনের সভাপতিত্বে প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভায় প্রকল্পটির কার্যক্রম অসমাপ্ত রেখে সমাপ্ত ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরুর মুহূর্তে মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তে খুলনাবাসী হতবাক ও খুলনার প্রতি চরম বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে খুলনা উন্নয়ন কমিটির মহাসচিব এ্যাড. হাফিজুর রহমান হাফিজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।