পাইকগাছা
মো. ফসিয়ার রহমান, পাইকগাছা (খুলনা)
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ১২:১১ পিএম
প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় খুলনার পাইকগাছায় গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন ইটভাটা। এতে পরিবেশ ও কৃষিজমি হুমকিতে পড়েছে। সম্প্রতি উপজেলার চাদঁখালী ইউনিয়নের ধামরাইল গ্রামের সিরাজুল ইসলামের এসবিএম ব্রিকস নামের ইটভাটায়। প্রবা ফটো
সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে খুলনার পাইকগাছায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ইটভাটা। এসব ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে নদী ও কৃষিজমি থেকে।
অভিযোগ রয়েছে, দিনের
পর দিন অনুমোদনহীন ইটভাটা পরিচালনা করা হলেও পরিবেশ অধিদপ্তর বা প্রশাসনের কোনো নজরদারি
নেই। উপরন্তু প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই পরিচালনা করা হচ্ছে এসব অবৈধ ইটভাটা।
খোঁজ নিয়ে জানা
গেছে, পাইকগাছায় অনুমোদনহীন ইটভাটা রয়েছে ১৫টি। এগুলো হলোÑ উপজেলার হরিঢালীর মাহবুবুর
রহমান রঞ্জুর মালিকানাধীন যমুনা ব্রিকস ১ ও ২, গদাইপুরের মুজিবুর রহমানের মালিকানাধীন
ফাইভ স্টার ও ফতেমা রহমানের এফএফবি, চাঁদখালীর নাজমুল হুদা মিথুনের এসএমবি, মহিউদ্দিন
খানের বিএকে, বাদশা খানের খান ব্রিকস, মুনছুর গাজীর এসএম ব্রিকস, আব্দুল হালিমের স্টার
ব্রিকস, আব্দুল মান্নান গাজীর বিবিএম ব্রিকস, আব্দুল জলিলের এডিবি ব্রিকস, শাহজাদা
ইলিয়াসের এমএসবি ব্রিকস, সিরাজুল ইসলামের এসবিএম ব্রিকস, শফিকুল ইসলামের এমবিএম ব্রিকস
এবং রাডুলী ইউনিয়নের সীমান্তে মিনারুল ইসলাম ও ডালিম সরদারের ইটের ভাটা।
পরিবেশ নীতিমালা
অনুযায়ী একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এক কিলোমিটার এবং বনাঞ্চল থেকে দুই কিলোমিটার দূরত্বে
ভাটা স্থাপনের কথা। কিন্তু এসব নীতিমালা সব ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত। প্রায় প্রত্যেকটি ইটের
ভাটার পাশে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার ও ব্যস্ততম সড়ক অবস্থিত। উপজেলার
চাঁদখালী, গদাইপুর, রাডুলী ও হরিঢালীতে ১৫টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে কৃষিজমিতে। এর প্রায়
সবগুলোই জনবসতি এলাকায় অবস্থিত। নিষিদ্ধ জায়গা যেমন কৃষিজমি, নদীর চর থেকে কাটা হচ্ছে
মাটি। পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ভাটায় বসানো হয়েছে করাতকল। বেশিরভাগ ভাটার নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের
ছাড়পত্র ও লাইসেন্স। এদিকে ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।
কোনো কোনো ইটভাটা
মালিক বলেন, ‘জরিমানার টাকা দিলেই সবকিছুই বৈধ।’ ভাটা মালিক মিঠু বলেন, ‘কিছু জরিমানার
টাকা দিলেই আর কোনো সমস্যা থাকে না। এ কারণে সে টাকা আগে থেকেই রেডি করে ভাটার কাজ
শুরু করি।’
ভাটা মালিক মিঠু
বলেন, ‘তিন বছর ধরে পরিবেশের কোনো ছাড়পত্র পাইনি, লাইসেন্স নেই। তবে সরকার আমাদের কাছ
থেকে আয়কর ও ভ্যাট আদায় করছে। এর পরও কয়েকবার আমাদেরকে জরিমানা করা হয়েছে।’
পাইকগাছা উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহেরা নাজনীন বলেন, ‘পরিবেশ
অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাদের সহযোগিতায় এসব জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত
বসিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পরিবেশ অধিদপ্তর
ও উপজেলা নির্বাহী আদালতের উদ্যোগে প্রতিবছর ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়। তাতে
ভাটা মালিকরা খুশি, কারণ এ দিয়েই বৈধতা পাচ্ছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভাটা
মালিক বলেন, ‘কিছু জরিমানার টাকা দিলেই আর কোনো সমস্যা থাকে না। এ কারণে সে টাকা আগে
থেকেই রেডি করে ভাটার কাজ শুরু করি। তিন বছর যাবৎ পরিবেশের কোনো ছাড়পত্র পাইনি, লাইসেন্স
নেই, তবে সরকার আমাদের কাছ থেকে আয়কর ও ভ্যাট আদায় করছে। এরপরও কয়েকবার আমাদেরকে জরিমানা
করা হয়েছে।’
খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ
দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম বলেন, অতি দ্রুত অবৈধ ইটভাটা ও চুল্লির
বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।