পঞ্চগড় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:০৬ পিএম
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:২৪ পিএম
‘এসো দেশ বদলাই পৃথিবী বদলাই’ স্লোগানে পঞ্চগড়ে মাদক ও দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাইক্লিং উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের সূচনা করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খালেদ রহিম।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের বাস্তবায়নে এ সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব খোরসেদ আলম খান, জেলা প্রশাসক সাবেত আলী, পঞ্চগড় ১৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মনিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্টের ২৯ বীরের মেজর মেহেদী হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সাইকেল র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে সাইকেল রেস অনুষ্ঠিত হয়। সাইক্লিং উৎসবে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
জেলা প্রশাসক সাবেত আলী জানান, মাসব্যাপী তারুণ্যের উৎসব আয়োজনের লক্ষ্যই হচ্ছে তরুণদের মধ্যে লিডারশিপ তৈরি করা। এ জন্য তাদেরকে উৎসব বাস্তবায়ন এবং পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার তরুণ এ উৎসবে অংশ নিয়েছে। তরুণদের বিভিন্ন আয়োজন উপভোগ করছে হাজার হাজার মানুষ। আমরা জেলার সর্বস্তরের তরুণদের এই উৎসবে যুক্ত করার চেষ্টা করেছি।
মাসব্যাপী তারুণ্যের উৎসবে হাজার হাজার তরুণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ভিন্ন রকম আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৮ ডিসেম্বর এই উৎসব শুরু হয়। উৎসবের ২৫টি ইভেন্টের মধ্যে প্রত্যেক উপজেলায় হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ খেলাধুলা হাজার হাজার দর্শক উপভোগ করছে। প্রত্যেক ইউনিয়ন এবং উপজেলায় ‘কেমন চাই আগামীর বাংলাদেশ’ শিরোনামে তরুণদের অংশগ্রহণে হচ্ছে কর্মশালা। শুরু হয়েছে শহরের সৌন্দর্যবৃদ্ধি কার্যক্রমও। জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তি রোধে পাখির অভয়ারণ্য স্থাপন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলছে। এসব আয়োজনেও অংশ নিচ্ছে জেলার বিভিন্ন গ্রাম ও শহরের তরুণ সমাজ। প্রত্যেক উপজেলায় আয়োজিত হচ্ছে ভলিবল ও ফুটবল টুর্নামেন্ট। কারাতে প্রতিযোগিতা, সাইকেল রেইস, অবস্টাকল রেইস, স্কেটিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় সহস্রাধিক শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী।
আগামী ২১ জানুয়ারি বিতর্ক উৎসব, ২২ জানুয়ারি উপস্থিত বক্তৃতা, ২৩ জানুয়ারি শুরু হবে তিন দিনব্যাপী পিঠা উৎসব, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য ক্রীড়া বিনোদন, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইয়ুথ সামিট, ইংলিশ স্পিকিং, লার্নিং, ফ্রিল্যান্সিং, নেটওয়ার্কিং এবং কমিউনিকেশনের ওপর অনুষ্ঠিত হবে প্রশিক্ষণ। রয়েছে নতুন বাংলাদেশের ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে পেশাজীবীদের নিয়ে (রিকশাওয়ালা, শ্রমিক, ড্রাইভার) প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। আগামী ২৫ জানুয়ারি বিখ্যাত ব্যান্ড শিল্পীদের অংশগ্রহণে কনসার্ট আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।