দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর সড়ক
রেজাউল করিম, গাজীপুর
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৫ ১২:৫৪ পিএম
জমি অধিগ্রহণের খবর পেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ আদায়ের আশায় গাজীপুরের কালীগঞ্জের ঢাকা-বাইপাস সড়কের পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে স্থাপনা। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
অধিগ্রহণের খবর পেয়ে সাপোর্ট টু জয়দেবপুর দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর সড়ক (ঢাকা-বাইপাস) সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রকল্পে সড়কের পার্শ্বে নিয়ম বহির্ভূতভাবে স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। এটি বন্ধ করতে ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথের (সওজ) প্রকল্প পরিচালক স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত ও অপসারণের নির্দেশনা দিলেও তা আমলে নিচ্ছে না। নির্দেশনা অমান্য করে নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণ চললাম থাকায় ইতোমধ্যে সওজ থেকে গাজীপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কালীগঞ্জ থানায় চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, সাপোর্ট টু জয়দেবপুর দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর সড়ক (ঢাকা-বাইপাস)
পিপিপি প্রকল্পের অধীনে সড়কের উভয়পাশে ৩০ ফুট সার্ভিস লেন নির্মাণের জন্য কালীগঞ্জ
উপজেলার উলুখোলা, সেনপাড়া, কুচিলাবাড়ী, রাথুরা ও গলান মৌজায় ২ দশমিক ৫৫৬২ একর ভূমি
অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য গত ৭ নভেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠিও দেওয়া হয়।
চিঠি দেওয়ার পর থেকে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবিত এলাকায় কোথাও জমির মালিক, কোথাও জমির
ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বেশি আদায় করার অসৎ লক্ষ্য নিয়ে ভবন
নির্মাণের প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। এসব স্থাপনা নির্মাণের জন্য কোনো নকশা অনুমোদন বা
কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নজরে এলে সওজের প্রকল্প পরিচালক স্থাপনা নির্মাণকারী
বিভিন্ন ব্যক্তিকে চিঠি দিয়ে বিরত থাকার জন্য বলেছে। পাশাপাশি নির্মিত এসব স্থাপনা
অপসারণের জন্য গাজীপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কালীগঞ্জ ইউএনও ও কালীগঞ্জ থানায়
একাধিক চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু কেউ কোনো কিছু মানছেন না। ভবন ও স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত
রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে জমির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সময় সরকারের বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত খরচ
করতে হতে পারে। এতে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সওজের প্রকল্প ব্যবস্থাপকের ইস্যু করা চিঠিতে বলা হয়েছে, পিপিপি ভিত্তিতে ৪-লেনে
উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান ২-লেনবিশিষ্ট জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর সড়ক
(ঢাকা-বাইপাস)- সড়কটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ ভিত্তিতে উভয় দিকে সার্ভিস লেনসহ
৪-লেন প্রবেশ-নিয়ন্ত্রিত (এক্সেস কন্ট্রোল) সড়কে উন্নীত করা হচ্ছে। সম্প্রতি সড়ক পরিদর্শনকালে
দেখা যায় যে, ভবন নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশন/ পৌরসভার নকশা অনুমোদন ব্যতীত এবং সড়কের
প্রান্ত হতে যথাযথ দূরত্ব বজায় না রেখে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছে। যা মহাসড়ক আইন,
২০২১’ এর ধারা ৯-এর ১১ উপধারা অনুযায়ী ‘মহাসড়কের সংরক্ষণ রেখার মধ্যে কোনো স্থাপনা
নির্মাণ করা যাবে না’ এবং ধারা ৯-এর ১৭ উপধারা অনুযায়ী মহাসড়কের উভয় পার্শ্বে ভূমির
প্রান্তসীমা হতে ১০ (দশ) মিটার সরকার কর্তৃক গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত রেখা
পর্যন্ত কোনো স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এমতাবস্থায়, বিধি মোতাবেক অত্র প্রকল্পের
সড়কের রো-এর পার্শ্বে ১০ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকা
ও ইতোমধ্যে নির্মিত স্থাপনা অপসারণের জন্য অনুরোধ করা হলো।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-বাইপাস সড়কের কালীগঞ্জ উপজেলার গরান এলাকায় অন্তত
১৫ থেকে ২০টি ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এসব ভবন নির্মাণে কোনো নিয়মনীতি অনুসরণ
করা হচ্ছে না। দ্রুত সময়ে ভবন নির্মাণের জন্য নিম্নমানের ইটখোয়া ব্যবহার হচ্ছে। দিন-রাত
টানা কাজ করে যাচ্ছে শ্রমিকরা। এসব স্থাপনায় ব্যবহার হচ্ছে ৬ থেকে আট মিলি রড। চায়ের
দোকান, সেলুন, মুদি দোকানও ইটের গাঁথুনি ও ছাদপেটা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ২-৩ তলা ভবনের
ওপর নতুন করে আরও কয়েক তলা করা হয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী ও নির্মাণ ত্রুটির কারণে
এসব ভবন যেকোনো সময় ভেঙে পড়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
চায়ের দোকানদার নাজমুল ইসলাম বলেন, আমি ১৫ বছর ধরে এখানে চায়ের দোকান করি।
নতুন করে এটি মেরামত করছি। সবাই করছে কিন্তু কেন করছে জানি না। গলান এলাকার বাসিন্দা
খলিলুল্লাহ বলেন, অধিগ্রহণ হবেÑ এমন খবরে সবাই ঘরবাড়ি নির্মাণ করছে। গত ১৫-২০ দিন ধরে
তারা নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। ডিসি অফিসে কিছু দালাল রয়েছে তারা অধিগ্রহণের খবর এলাকায়
ছড়িয়ে দেয়। এরপরেই তারা দ্রুত সময়ে কাজ শুরু করেছে।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক সুমন সিংহ বলেন, ঢাকার যানজট এড়িয়ে পণ্য ও যানবাহনের চলাচলের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। নিরাপদে স্থানীয় পরিবহনের জন্য সড়কের উভয় পাশে সার্ভিস লাইন নির্মাণ করতে জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন। আমরা প্রস্তাব দেওয়ার পর কিছু অসাধু লোক বেশি ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য রাতারাতি অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেছে। সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত বাড়তি খরচ বাঁচাতে এসব বন্ধ করা ও যেসব নির্মিত হয়েছে, সেগুলো উচ্ছেদে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।