টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১৯:৫১ পিএম
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১৯:৫২ পিএম
টাঙ্গাইলে কালচারাল রিফরমেশন ফোরামের আয়োজনে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব। উৎসবে পিঠা খাওয়ার পাশাপাশি দিনব্যাপী লাঠিখেলা, হাডুডু, পুঁথিপাঠ, বায়োস্কোপ দেখাসহ নানা লোকজ উৎসবে মেতেছিল আগতরা।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের পক্ষে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসান। উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপারের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল রানা।
উৎসব কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল কালচারাল রিফরমেশন ফোরামের উপদেষ্টা হামিদুল হক মোহন ও গোলাম আম্বিয়া নূরী, উৎসব কমিটির সদস্য সচিব অনিক রহমান বুলবুল।
উদ্বোধনের পর উৎসব প্রাঙ্গণে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা ও হাডুডু খেলা অনুষ্ঠিত হয়। নানা বয়সি মানুষ ঐতিহ্যবাহী এ খেলা দেখতে আসেন। উৎসবে ৪২টি স্টলে দেশীয় ঐতিহ্য ভাপা পিঠা, দুধের পিঠা, নকশি, চিতই, পাটিসাপটা, জামাইবরণ পিঠা, ডাল ও তালের পিঠাসহ বাহারি পিঠা স্থান পেয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে ঢেঁকিতে চাল ছাটা, মুড়ি ভাজা, পুঁথিপাঠসহ গ্রামীণ বিভিন্ন ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। বিকালে উৎসব মঞ্চে জারিগান ও লালন সংগীতের আয়োজন করা হয়।
মেলায় আগত স্কুলছাত্র সামি সিকদার বলে, প্রায় প্রতিদিন মুড়ি খাই। কিন্তু কীভাবে মুড়ি ভাজা হয় তা কখনও দেখি নাই। আজ এই উৎসবে এসে মুড়ি ভাজা দেখতে পেলাম।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী নুরুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলায় লাঠিখেলা দেখতাম। এখন আর তেমন লাঠিখেলা কোথাও দেখা যায় না। অনেক বছর পর আজ এ উৎসবে এসে লাঠিখেলা দেখে ভালো লাগল। কিছু সময়ের জন্য যেন শৈশবে ফিরে গিয়েছিলাম।
উৎসব কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম মোস্তফা লাবু বলেন, যান্ত্রিক যুগে মোবাইল ফোনের কারণে শিশুরা লোকজ ও সাংস্কৃতিক থেকে একেবারে দূরে সরে গেছে। লোকজ সংস্কৃতি কী, শিশুরা তা জানে না। শিশুরা মাঠে-ঘাটে খেলাধুলার বাস্তবতা থেকে অনেকটাই দূরে। সেই অনুভব থেকে আমরা এ রকম লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসবের আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ লোকজ ও সংস্কৃতি আগত ও বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
উৎসব কমিটির সদস্য সচিব অনিক রহমান বুলবুল বলেন, উৎসবে লাঠিখেলা, ছেলেদের ও মেয়েদের হাডুডু খেলা, সঙযাত্রা, যাদু প্রদর্শন, যাত্রাপালা, পুঁথিপাঠ, লোকজ গান, গোল্লাছুট, ওপেন টু বাইস্কোপ, হামদ, নাতে রাসুল, কীর্তন, শ্যামা সংগীতসহ দেশজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।