হবিগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২২ ১৫:৪৪ পিএম
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২২ ১৬:১১ পিএম
প্রতীকী ফটো
হবিগঞ্জে দ্বিতীয় বিয়ে করায় হামিদা আক্তার নামে এক নারী ও তার পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। ঘরে তালা মেরে তাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন গ্রামের মাতব্বররা।
হামিদা আক্তার জেলার চুনারুঘাট উপজেলার খাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। একই গ্রামের মাতব্বর ঈমান আলী তার ঘরে তালা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
হামিদা আক্তার বলেন, প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর গ্রামের কিছু লোক তাকে বিভিন্নভাবে অবৈধ সম্পর্ক করার প্রস্তাব দিত। পরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের ঘরে তালা দিয়ে দুটি সন্তান ও নতুন স্বামীকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলেন ঈমান আলীসহ গ্রামের কয়েকজন মাতব্বর। বাধ্য হয়ে তিনি উপজেলার আমু চা-বাগানের পুলপাড়ে চায়ের দোকান দিয়ে সেখানেই পরিবার নিয়ে বাস করছেন।
প্রায় সাত মাস আগে তাকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান। তিনি তার বসতভিটা পুনরুদ্ধার করে মাতব্বরদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঈমান আলী প্রভাবশালী লোক। তিনি যে ঘরে তালা দিয়েছেন সেই তালা আর কারও খোলার সাহস নেই বলে এলাকাবাসীর ভাষ্য।
মাতব্বর ঈমান আলী ঘরে তালা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, ‘গ্রামবাসীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি এ কাজ করেছি।’
হামিদা বা তার পরিবারের কেউ আইনি ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চুনারুঘাট থানার ওসি মো. আলী আশরাফ জানিয়েছেন।
আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন পলাশও ঘটনা জানেন না বলে দাবি করেছেন।
তবে উপজেলার ইউএনও সিদ্ধার্থ ভৌমিক বিষয়টি অবগত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তদন্ত করে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।