রংপুর অফিস
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৫ ২২:০৬ পিএম
আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৫ ২২:১৫ পিএম
তিস্তা নদীর পানি ভারতের একতরফা প্রত্যাহার বন্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে প্রতিকার দাবি করা হয়েছে। রবিবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে এই দাবি জানানো হয়।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রিভারাইন পিপল ক্লাব আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ছাওমুম পাটোয়ারী সুপ্ত। এতে বক্তব্য দেন রিভারাইন পিপলের পরিচালক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ, শিক্ষক উমর ফারুক, খাইরুল ইসলাম পলাশ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মহানগরের সদস্য সচিব রহমত আলী, শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন, শিহাব মণ্ডল প্রমুখ। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও সমাবেশে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক উমর ফারুক বলেন, তিস্তা নদীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও জীববৈচিত্র্য গভীরভাবে জড়িত। আন্তর্জাতিক নদী তিস্তার পানি একতরফা প্রত্যাহার করে ভাটির দেশ হিসেবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। শুকনো মৌসুমে এ অঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে, বর্ষার অতিপ্লাবনে মানুষের জীবন ও সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় না হলে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে দেশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
রিভারাইন পিপলের পরিচালক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, আন্তঃসীমান্ত নদীর উজানে স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে ভাটির দেশের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়। এটা আন্তর্জাতিক নিয়ম। ভারত এই আইন লঙ্ঘন করে একতরফা পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এটি ইতিহাসের বর্বরতম ঘটনা। এটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে শত্রুতামূলক আচরণ। বিগত সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণে তারা তিস্তার পানি চাননি। এ সরকারের কাছে দাবি জানাই, আন্তর্জাতিক আদালতে এর প্রতিকার চাওয়া হোক। আমরা তিস্তার ১১৫ কিলোমিটার পরিদর্শন করে দেখেছি কোথাও পানি নেই, কোথাও নৌকাও চলে না। তিস্তার গভীরতা না থাকায় গভীর পানির কোনো মাছ নেই। ভারতের কারণে প্রতিবছর বর্ষায় তিস্তায় ক্ষতি হয় এক লাখ কোটি টাকার ওপরে। আমরা আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে তিস্তা নদীর ন্যায্য হিস্যা চাই।