চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:৫২ পিএম
আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:৫৩ পিএম
চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়কের গ্রুপিং প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। মুখ্য সংগঠককে অবরুদ্ধ করা ও একপক্ষ আরেকপক্ষের ওপর হামলার ঘটনা এবং সংবাদ সম্মেলনে এক সমন্বয়ককে চাঁদাবাজ বলে তেড়ে যাওয়ার মত ঘটনায় তোলপাড় চলছে। এ ঘটনায় একটি পক্ষ রবিবার (১২ জানুয়ারি) বিকালে মানববন্ধনও করেছে।
এর আগে শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর ওয়াসার মোড়ে একটি ভবনে মুখ্য সংগঠক হান্নান মাসউদ ও রাসেল আহমদকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটে। এটিকে কেন্দ্র করে সেখানে দুই পক্ষ মারামারিতে জড়ায়। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার দাবি করা হয়। এই হামলার জন্য একটি পক্ষ সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি ও তার ঘনিষ্টদের এবং অপরপক্ষ রাসেল ও তার পক্ষের লোকজনকেও দায়ী করেছেন।
রবিবার বিকালে হান্নান মাসউদ ও রাসেল আহমদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে। সেখানে তারা চট্টগ্রামে চান্দগাঁও এলাকায় একটি মেলায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি বিষয় তুলে ধরে বলেন-চিহ্নিত চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নেন। কিছু সমন্বয়ক আওয়ামী লীগকে পুর্নবাসন করার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের কর্মীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়। ওই পক্ষই (বিরোধী পক্ষকে ইঙ্গিত করে) গতকাল শনিবার সমন্বয়ক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। অভিযোগ কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে নয়, ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ডট গ্যাং নামে একটি গ্রুপ রয়েছে। যেটি চসিকের সাবেক কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমনের অনুসারী কিশোর গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণে। ওই গ্যাং কে কাজে লাগাচ্ছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়ক।
এদিকে, গতকাল শনিবার বিকেল ৪টার দিকে নগরীর ২ নম্বর গেট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘জুলাই ঘোষণাপত্রের’ পক্ষে জনসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ শুরু হয়। বিপ্লব উদ্যান থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ শেষে জিইসি মোড় সংলগ্ন পেনিনসুলা হোটেলের সামনে গিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়। এরপর সবাই জিইসি মোড়ে যান। সেখানে একটি ভবনে সভায় বসে কর্মসূচিতে আসা নেতাকর্মীরা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ওই ভবনে যেখানে সভা চলছিল সেখানে আবদুল হান্নান মাসউদ ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রাসেল আহমদকে এক ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। তারা সেখান থেকে বের হন। অপরদিকে কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফির অনুসারীদের অভিযোগ, জিইসি মোড়ে তাদের ওপর হামলা হয়। এ বিষয়ে জানতে তারা সংগঠনের ওয়াসার মোড়ের ওই কার্যালয়ে গিয়েছিলেন।
এরপর শনিবার রাতেই সংবাদ সম্মেলন করেন সমন্বয়ক রাসেল আহমদ ও তার অনুসারীরা। সংবাদ সম্মেলন যখন হচ্ছিল তখন সেখানে হাজির হন রাফি। সেখানে রাফির দিকে তেড়ে যান রাসেলের এক অনুসারী। রাফিকে ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে তেড়ে যান ওই অনুসারী।
ওই সংবাদ সম্মেলনে রাসেল বলেন, জিইসি মোড়ে যখন কর্মসূচি হচ্ছিল তখন সেখানে শেষ বক্তা ছিল রাফি। সে তখনও আসেনি। এরপর কর্মসূচি শেষে আমরা যখন বৈঠকে বসি সেখানে অনেকক্ষণ পর দলবল নিয়ে আসে রাফি। কিছুদিন আগে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে যে রিজাউর রহমানের বিরুদ্ধে, সেসহ তার ‘ডট গ্যাং’ চলে আসে। কার্যালয়ে এসে মাসউদকে সে প্রশ্ন করে, ‘আজ যে কর্মসূচি দিয়েছেন, তা আমাদের জানিয়েছেন?’ জবাবে মাসউদ বলেন, ‘হু আর ইউ?’ ঠিক তখন ডট গ্যাংয়ের লিডার সাদিক আরমান, নিজাম উদ্দিনসহ ছেলেমেয়েরা আমাদের অবরুদ্ধ করে। আমরা এক ঘণ্টায় সেখান থেকে বের হতে পারিনি। সেখানে সিসিটিভি রয়েছে, সব প্রমাণ আছে। এটা ধৃষ্টতা ও ঔদ্ধত্য দেখানো।
ওই সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে হাজির হন রাফি। সেখানে বক্তব্য দিতে চাইলে আয়োজকরা সংবাদ সম্মেলন শেষ করে দেয়। একপর্যায়ে আয়োজক পক্ষের অনুসারীদের একজন রাফির দিকে উত্তেজিত হয়ে তেড়ে যান। তখন অন্যরা তাকে সরিয়ে নিয়ে আসেন।
পরে খান তালাত মাহমুদ রাফি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমাদের পূর্বঘোষিত কোনো কর্মসূচি ছিল না। হান্নান ভাই শুক্রবার কল করে বলেন ‘আমি চট্টগ্রাম আসতেছি।’ আজ যে লিফলেট বিতরণ ছিল সেটা। বিকাল ৩টায় কর্মসূচি ছিল। আমি যেহেতু ক্যাম্পাসে থাকি। আমার সেখানে যেতে দেরি হয়। এখন যে হামলার অবিযোগ করা হচ্ছে-এই হামলায় যে বা যারা জড়িত থাকুক, প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনতে হবে।